সড়ক আইন মানার বিকল্প নেই

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ২২:২৮

 

প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইন্সটিটিউটের (এআরআই) গবেষণায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ৫৪ শতাংশের বয়স ১৬ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। বাকি ১৮ শতাংশ শিশু। সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানে (যাত্রী কল্যাণ সমিতি) চলতি বছরে (জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১১৮০ জন, আহত হয়েছেন ২২১০ জন।

এআরআই গত ২০ বছরের বিশ্লেষণে বলেছে, ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালানোর কারণে। চালকের অদক্ষতায় টার্নিংয়ে (মোড়) সতর্ক অবস্থা না নেওয়া, দেখেশুনে গাড়ি ওভারটেক না করা, সড়ক সংলগ্ন হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ-হাসপাতালের সামনে গাড়ির গতি না কমানো। নেশাগ্রস্ত, ঘুম ও ক্লান্ত অবস্থায় ও হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো। ট্রাফিক আইন না মানা। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ না থাকা, অনেক সময় চলন্ত অবস্থায় মোবাইলফোনে কথা বলা।  যানবাহনের চলাচলের রাস্তা কম ও সরু থাকা সত্ত্বেও অধিক হারে নসিমন, করিমন, ইজিবাইক, সিএনজি, রিকশা, ভ্যান বাস-ট্রাকের সঙ্গে মহাসড়কে চলাচলের কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। দালাল চক্র এবং বিভিন্ন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজির জন্য অহেতুক লাঠিসোটা হাতে গাড়ি থামানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটে যায়। আবার মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন রাস্তায় চলাচলের কারণে ব্রেকফেল, চাকা ফেটে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে  সেতুর রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে বা সড়ক সংলগ্ন গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগিয়ে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায়। সবচেয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে চালক অমনযোগী হয়ে ওভারটেক করার কারণে। আমাদের দেশে অনেক মানুষই রাস্তা চলাচলে সচেতন নয়। যেখানে সেখানে রাস্তা পারাপার এবং অন্যমনস্ক হয়ে চলাচলের জন্য সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও তদন্ত সাপেক্ষে এ পর্যন্ত দোষী ব্যক্তির তেমন শাস্তি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য কমপক্ষে এসএসসি ও সমমানের পাশ ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের (ড্রাইভিং ইনস্টিটিউট) মাধ্যমে চালক তৈরি করে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। এই সমস্ত চালককে মালিক কর্তৃক যথাযথ মূল্যায়ন, বিশেষ করে ট্রাকচালকদের ক্ষেত্রে বেতন, সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং এক টানা ছয় ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর বিশ্রামের ব্যবস্থা করা। কোনোভাবেই মহাসড়কে ভারী যানবাহনের সঙ্গে তিন চাকার যান চলাচল করতে না দেওয়া। এতে করে শতকরা ৬০ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা এমনিতেই কমে যাবে। চালক নেশাগ্রস্ত হয়ে চোখে ঘুম নিয়ে বা মোবাইলফোনে কথা বলা অবস্থায় গাড়ি চালালে অবশ্যই তাঁকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মহাসড়কের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই হাটবাজার রাখা যাবে না, কারণ এতে করে যানজট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে এবং অসুস্থ রোগীদের অ্যাম্বুলেন্সের দ্রুত চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। সড়কে বিভিন্ন সংস্থার নামে, মাসোহারা, বিটের টাকা, শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজি, ফেরিঘাটে চাঁদাবাজি, গাড়ির কাগজপত্র দেখার নামে হয়রানি ও চাঁদাবাজি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। প্রত্যেকটি দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দলমত নির্বিশেষে নিশ্চিত করতে হবে শাস্তি।

ঝিনাইদহ