মেয়রদ্বয়ের কাছে প্রত্যাশা

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ২২:২৯

সাধন সরকার

 

বিশ্বের ১ নম্বর দূষিত ঢাকা শহরে দুই সিটি করপোরেশনে দুইজন নগরপিতা পেয়েছেন রাজধানীবাসী। গত প্রায় দুই দশক থেকে নানা সংকট ও সমস্যায় জর্জরিত রাজধানী ঢাকা শহর। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা যে করা হয়নি তা নয়, তবে সমন্বিত, দূরদর্শী ও পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে। চার বছর পরপর দুই সিটি করপোরেশনে নতুন মেয়র নির্বাচিত হন আর নগরবাসী আশায় বুক বাঁধেন। নগরবাসী ভাবেন—এবার বুঝি যানজট সমস্যার সমাধান হবে, এবার বুঝি সব ধরনের দূষণ থেকে মুক্তি মিলবে! ঢাকা শুধু বিশ্বের ১ নম্বর দূষিত শহরই নয়, বসবাসের অযোগ্য বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর একটি! নগরের প্রধান তিনটি সমস্যা হলো—বিভিন্ন দূষণ, যানজট ও জলাবদ্ধতা। শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণের কবলে পড়ে মানুষের আয়ু কমে যাচ্ছে, জনস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যানজটে পড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যার অর্থনৈতিক মূল্য অনেক। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ঢাকাবাসীর যেন অমোঘ নিয়তি! আশা করি নতুন মেয়রদ্বয় জলাবদ্ধতা সমাধানে গুরুত্ব দেবেন। এ সমস্যা সমাধানে নগরের ড্রেনেজ লাইনের প্রবাহ ও খাল উদ্ধারে জোর দেওয়া জরুরি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ (ইআইইউ) প্রধান পাঁচটি বিষয়ের (স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা, ভৌত অবকাঠামো এবং স্থিতিশীলতা বা শৃঙ্খলা) ওপর ভিত্তি করে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বসবাসযোগ্যতার তালিকা করে। এই তালিকায় প্রায় প্রত্যেক বছর ঢাকা প্রথম বা দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় স্থানেই অবস্থান করে।

নতুন দুই মেয়রের কাছে নগরবাসীর আশা-ভরসা অনেক। নগরবাসী এটাও জানে হঠাত্ করে জাদুকরের ইশারায় সবকিছু পরিবর্তন হবে না, তবে নগরের প্রধান সমস্যাগুলোর সমাধান যেন দ্রুত হয়—এটাই কাম্য। নগরের অন্যান্য সমস্যার মধ্যে রয়েছে মশার যন্ত্রণা, চাঁদাবাজি, তারের জঞ্জাল বা কুণ্ডলীর ঝামেলা, চুরি-ছিনতাই, মাদক, অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, পানিদূষণ, সড়ক দুর্ঘটনা, দুর্বল ট্রাফিকব্যবস্থা ইত্যাদি।

ঢাকা শহরকে জল-সবুজে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার কথা বেশ কয়েক বছর ধরে শোনা গেলেও তা এখনো শুরুর পর্যায়ে রয়েছে! সবুজে সবুজে সবুজায়ন করতে হলে ছাদবাগানের ওপর জোর দিতে হবে। নগরের সব ধরনের জলাশয় টিকিয়ে রাখতে হবে। খালগুলো উদ্ধার করে তা বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে  তোলার চিন্তা করা যেতে পারে। গণপরিবহন সংকটে নগরবাসীকে প্রায়ই ভুগতে হয়। নারীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয় ও চলাচলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করে তা সীমিত করা যেতে পারে। পার্ক-উদ্যানগুলোর সবুজায়ন ঠিক রাখার পাশাপাশি শহরের সব ধরনের ফাঁকা জায়গায় বৃক্ষরোপণে নগরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নগরের টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিতে হবে। নগরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। নগরে যত্রতত্র বিল্ডিং না করে পরিকল্পিত আবাসনের ওপর জোর দিতে হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে পুরানো ঢাকার ওপর আলাদা গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

পরিশেষে, নতুন মেয়রদ্বয়ের নতুন চিন্তাভাবনায় ঢাকাবাসীর পুরনো সমস্যার সমাধান হবে, ঢাকা হয়ে উঠবে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগর—এটাই প্রত্যাশা।

ঢাকা