স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে মানিকগঞ্জের আরিচা ঘাট অঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজকল্যাণ সমিতি ও স্থানীয়রা। যমুনার ভাঙনের হুমকির মুখে আছে শিবালয় বন্দর বাজার, গরুর হাট ও আরিচা নদীবন্দর এবং বন্দরসংলগ্ন বাড়িঘরসহ বহু স্থাপনা। আরিচা বন্দর এবং গরুর হাট থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে থাকে। ভাঙনের কারণে এসব স্থাপনা যদি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, তাহলে একদিকে বাজারের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অপরদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হবে। ভাঙন রোধে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করছেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা।
ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, দুই বছর আগে আরিচা ঘাটের কাছে যে স্থানে ধুধু বালুর চর ছিল, এখন সেখানে গভীর পানি এবং পানির তীব্র স্রোত পাড়ে আছড়ে পড়ছে। ফলে এবার বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে নদীর পাড়ে অবস্থিত বাজারের কয়েকটি দোকান নদীতে ধসে গেছে। ফলে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। গতবারের বর্ষায় পানি বাড়ার সময় যেভাবে নদীভাঙন শুরু হয় তা বিগত ৫০ বছরেও দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এবার বর্ষা শুরু হবার আগেই ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে পানি বৃদ্ধির সময় আরিচা বন্দর বাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। নদীর পাড় এলাকা দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন অনেকেই। এমতাবস্থায় আরিচা ঘাটসংলগ্ন নিহালপুর এলাকা হতে দক্ষিণ শিবালয় পর্যন্ত নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজকল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য মানিকগঞ্জ-১, মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
জানা গেছে, গতবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে চর পড়লে ড্রেজিং করে চ্যানেল বের করা হয়। এবার নদীর মাঝে চর পড়ায় পানির সে াত আরিচা ঘাটের নিকটবর্তী এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। আরিচায় নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে হুমকিতে পড়বে আরিচা নদীবন্দর, শিবালয় বন্দর হাটবাজার, আবহাওয়া অফিস, পিসিপোল নির্মাণ প্ল্যান্ট, তেওতা-জাফরগঞ্জ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও সড়ক, বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসি অফিস কমপ্লেক্স, শিবালয় থানা কমপ্লেক্স, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনাসহ এলাকার বহু বাড়িঘর। উজানে ভাঙন শুরু হলে ভাটিতে পাটুরিয়া ফেরি টার্মিনালও নদীগর্ভে বিলীন হবার উপক্রম হবে।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আরিচা ঘাট এবং বন্দরের নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় এমপি, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ব্যবসায়ী সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ আমাকে তাগিদ দিয়েছেন। নরমাল প্রপোজাল আমরা হেড অফিসে পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনো পাশ হয়নি। এবার বর্ষার আগেই আমরা জিও ব্যাগ ফেলব, যাতে বর্ষার সময় নদীর পাড় না ভাঙে। ভাঙন রোধে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
