করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বিপর্যস্ত কানাডা। স্কুল, মসজিদ বন্ধ, সংসদ অধিবেশন স্থগিতের পর অন্টারিও বিভিন্ন শহরে পর এবার একের এক ডে কেয়ার, লাইব্রেরি, মিউজিয়াম, গ্যালারি, ক্যাসিনিউ, নায়গ্রা ফল, সিএন টাওয়ার ইত্যাদি এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জাস্টিস ট্রুডো, তার স্ত্রী সোফি, বিরোধী দলের নেতা জাসমিত সিংয়ের পর এবার টরন্টো মেয়র জন টরি ঘোষণা দিয়ে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি তথা আইসোলেশনে গেছেন। তিনি বলেন, টরন্টোর স্বাস্থ্যের প্রধান মেডিকেল অফিসার কর্তৃক জারি করা নতুন পরামর্শের পরে তিনি নিজেকে জন বিচ্ছিন্ন করলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার টরন্টোর স্বাস্থ্য বিষয়ক চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. আইলিন ডি ভিলা একটি নতুন সুপারিশ জারি করে বলেন, কানাডার বাইরে ভ্রমণ থেকে ফিরে আসার পরে সমস্ত ভ্রমণকারীরা ১৪ দিনের জন্য নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে। সেই প্রেক্ষিতেই টরি গত বুধবার একটি ব্যবসায়িক মিশন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন।
টরি আরও জানিয়েছেন, তিনি আইসোলেশনে থাকলেও মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে করোনা আতঙ্কে কানাডার শপারড্রাগস, ফ্রেশকো, ওয়ালমার্ট, নো ফ্রিলসহ এথনিক গ্রোসারি স্টোরগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। মাক্স, হ্যান্ড ওয়াশ, এন্টি ভাইরাস জাতীয় দ্রব্যের সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ খাবার-দাবার কেনাকাটা করতে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন।
এদিকে সার্বিক অবস্থা সামাল দিয়ে কানাডা সরকার সব ধরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। অর্থনীতির গতি সচল রাখতে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা নেবার ঘোষণাও দিয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড।
শনিবার স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি অবস্থা থেকে কিছুক্ষণের জন্য বেরিয়ে এসে রাজধানী অটোয়াস্থ রিডো কটেজের সামনে এসে বক্তব্য রাখেন ট্রুডো।
ইত্তেফাক/এসি
