/ হামীম রায়হান
ঠাট্টার ঠাট্টা মশকরা করতে করতে এক যুগ পূর্ণ হলো। এক যুগ মানে বারো বছর। বারো শেষে আগামীকাল সে তেরোতে পা দিবে। অর্থাত্, ঠাট্টা শিশু থেকে কৈশোরে পরিণত হলো।
‘ছুটি’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, তেরো-চৌদ্দ বত্সরের ছেলের মতো পৃথিবীতে এমন বালাই আর নাই।
ঠাট্টার মতন এমন বালাইও আর নাই। যেখানে সব রম্য ম্যাগাজিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে ঠাট্টা কারো তোয়াক্কা না করে নিজের মতন মানুষকে হাসিয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘ দশ-এগারো বছর প্রেম করে এক বছর হলো বিয়ে করেছি। আমাদের সংসারে ঝগড়া একটা মৌলিক উপাদান। যে কোনো বিষয়ে আমার হোম মিনিস্টার ঝাগড়া বাঁধাতে পারেন। এটা এক আশ্চর্য ক্ষমতা! একটা উদাহরণ দেই—
সেদিন ‘ঠাট্টা’ পড়তে পড়তে বৌকে বলি, ‘এই ‘ঠাট্টা’ আজ এক যুগ ধরে প্রকাশিত হচ্ছে! ঠাট্টা-কে নিয়ে একটা লেখা লিখতে হবে।’ সে বলল, ‘আমাদের সম্পর্কেরও তো এক যুগ হলো। কই কখনো তো আমায় নিয়ে একটা গল্প লিখলে না! অন্যের এক যুগ নিয়ে তোমার এত উত্সাহ, আর আমারটার কোনো খবর নাই! পাশের বাসার সাইমা ভাবির বিয়ের দু’বছর হলো। ভাইয়া কি সুন্দর একটা ডায়মন্ডের নাকফুল গিফট করেছেন! তুমি আমার জন্যে কী এনেছ বলো?’
দেখলাম পরিস্থিতি আয়ত্বের বাইরে চলে যাচ্ছে। পাড়ায় কে কাকে কী উপহার দিয়েছে তা এখনই পত্রিকার পাতার মতো বেরিয়ে আসবে। কথা না বাড়ানোই সমীচীন ভেবে সব অপরাধ ‘ঠাট্টা’র ঘাড়ে তুলে চুপ মেরে রইলাম। অপরাধ যখন প্রমাণিত, তখন আদালতে রায় হলো— ঠাট্টার এক যুগ উপলক্ষে আজ রাতের খাবার কোনো রেস্টুরেন্টে হবে।
বৌকে নিয়ে রিকশায় যেতে যেতে বৌ উচ্চকণ্ঠে বলল, ‘যুগ যুগ জিও ঠাট্টা!’
পটিয়া, চট্টগ্রাম।
