দেশের স্টার্টআপদের নিয়ে একটি বেইজলাইন জরিপের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প (iDEA)। এই জরিপকে সফল করার লক্ষ্যে বুধবার, ১১ মার্চ ২০২০ তারিখ রাজধানীর আগারগাঁও আইসিটি টাওয়ারে অনুষ্ঠিত হয় একটি বিশেষ কর্মশালা। জরিপে কাজ করার উদ্দেশ্যে নিয়োজিত প্রায় ত্রিশের অধিক প্রফেশনাল ও অভিজ্ঞ ডেটা কালেক্টরগণ এ কর্মশালায় অংশ নেন। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)-এর নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব এবং সভাপতিত্ব করেন iDEA প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সৈয়দ মজিবুল হক।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ এই জরিপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে অনুরোধ করেন। প্রায় তিন মাসব্যাপী এ সার্ভের কার্যক্রম পরিচালনার পর যে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবে তা সত্যিই স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে সুগঠিত করতে সহযোগিতা করবে। স্টার্টআপ বাংলাদেশ-iDEA থেকে এবারই প্রথম এ প্রকারের স্ট্র্যাটেজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যা স্টার্টআপদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)-এর নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান যে সরকার একটি সুগঠিত স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নির্মাণে কাজ করছে। স্টার্টআপদের কল্যাণে গ্রহণ করা হচ্ছে নানা প্রকার উন্নয়নমূলক উদ্যোগ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সকলকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একটি শক্ত ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে এ ধরনের বেইজলাইন সার্ভে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
কর্মশালার উদ্বোধনীতে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন iDEA প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সৈয়দ মজিবুল হক। তিনি জানান যে, এ জরিপের লক্ষ্যে অভিজ্ঞদের নিয়ে একটি উপযুক্ত প্রশ্নপত্র তৈরি করা হচ্ছে যার মাধ্যমে জরিপের পর বর্তমানে বাংলাদেশের স্টার্টআপদের একটি পুরো চিত্র উঠে আসবে। স্বাস্থ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, মেডিসিন, মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট, পরিবহন, পর্যটন, লিগ্যাল, আর.এম.জি সেক্টর, শিক্ষা, অবকাঠামো, ই-কমার্স /মার্কেটপ্লেস, আর্থিক সেবা, কৃষি, মিডিয়া ও বিনোদন, ডিজিটাল সেবা, ই-গভর্নেন্সসহ প্রায় ১৭টি সেক্টর এ জরিপের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে এ সেক্টরগুলো থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৭০০ প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে জরিপ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্টার্টআপদের জন্য কী কী বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া দরকার, আইনগত বিষয়ে কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন বা পরিমার্জন ও সংশোধন জরুরি তা চিহ্নিতকরণ করা সহজ হবে এই সার্ভের মাধ্যমে। সমাজের কোন কোন ক্ষেত্রে স্টার্টআপরা বিশেষ ইম্প্যাক্ট রাখতে পারছে তা চিহ্নিতকরণসহ স্টার্টআপদের থেকে বিশেষ রিকমেন্ডেশন ও চ্যালেঞ্জগুলো একত্রীকরণ করে তা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে যা স্টার্টআপদের জন্য একটি বিশেষ ও সুগঠিত ইকোসিস্টেম তৈরিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। চলতি মাস অর্থাত্ ২০২০-এর মার্চের শেষের দিকে মাঠপর্যায়ে জরিপের কার্যক্রম শুরু হবে এবং তিন মাসব্যাপী জরিপটি চলবে।
