ঢাকায় দুশ্চিন্তায় কাতো

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২০, ২১:৩১

  জাপানে করোনা

স্পোর্টস রিপোর্টার

করোনা ভাইরাসের কারণে সংশয়ের মধ্যে থাকা টোকিও অলিম্পিক গেমস পিছিয়ে দিতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন মন্তব্যে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের জাপানি ফুটবলাররা।

টোকিও অলিম্পিক গেমস ২৪ জুলাই শুরু হওয়ার কথা। আয়োজকরা জানিয়েছেন খুব শিগগিরই গেমসের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যাবে। কারণ জাপানও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। ঢাকায় জাপানি ফুটবলাররা খেললেও তাদের পরিবার পরিজন আছেন জাপানে। তাদের সঙ্গে সারাক্ষণ যোগাযোগ হচ্ছে।

শেখ জামালের অধিনায়ক উসুকু কাতো উদ্বিগ্ন। তার বাবা-মা এবং তিন বছরের পুত্র সন্তান জাপানের ওসাকা শহরে থাকে। তিন বছরের বাচ্চার কথা মনে হলে চোখ ভিজে যায় কাতোর। পরশু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগের খেলায় শেখ জামাল ২-০ গোলে শেখ রাসেলকে হারায়।

উসুকু কাতো খেলা শেষে কথা বলতে গেলে নিজের পরিবারের কথা তুলে ধরেন। এই জাপানি জানান, যখনই তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তখনই বারবার মাস্ক ব্যবহার করাসহ সব রকম সাবধানতার কথা বলেন। ফুটবলারটি বলেন, ‘পাঁচ মাস আগে জাপান থেকে এসেছি। আরো থাকতে হবে। ছেলেটার কথা মনে পড়ে। যদিও আমার পরিবার বন্ধু-বান্ধব কেউ এখনো করোনায় আক্রান্ত হননি তারপরও একটা টেনশন কাজ করছে।’

গতকাল বিকালে মোহামেডান ক্লাবে গিয়ে দেখা গেল মোহামেডানের জাপানি অধিনায়ক উরি নাগাতার মনযোগ ল্যাপটপে। জানা গেল পরশু রাতে ঢাকায় জাপানি রাষ্ট্রদূতের বারিধারার বাসায় ডিনার করেছেন জাপানি ফুটবলাররা।

নাগাতা বললেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার হাসিগুচি, শেখ জামালের কাতো এবং আমি গিয়েছিলাম ডিনারে। ঢাকায় এক হাজার জাপানি কাজ করেন। তাদের সবাইকে দাওয়াত করা হয়েছিল। আমরাও সেখানে ছিলাম।’    

মোহামেডানের অনুশীলন না থাকলে নাগাতা সর্বক্ষণ দেশে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বললেন, ‘কনসার্ট, গ্র্যাজুয়েশন, জে লিগ, পার্টি সবই বন্ধ। সাধারণ মানুষ ভয় পাচ্ছে। মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছে।’

দুই বছর ধরে ঢাকার লিগে খেলা নাগাতা দুই বছর ধরে সেখানে যাননি। তিনি জানান, করোনার ভয় মানুষকে গিলে খাচ্ছে। তার বাবা আলতামিরার গার্মেন্টস ব্যবসা টোকিওতে। নাগাতার গার্ল ফ্রেন্ড চিহো টোকিওর একটি হাসপাতালে নার্সের চাকরি করেন। তার সঙ্গে নিয়মিত কথা হয়।  জাপান থেকে বলা হয় সাবধানে থাকার জন্য।

এ প্রসঙ্গে খেলোয়াড়টি বলেন, ‘আমি জানি না ভাগ্যে কি আছে। লেখাপড়া শেষ করে অস্ট্রেলিয়ার গোলকোস্টে ফুটবল খেলে ঢাকায় এসেছি। যেভাবে কারোনা ভাইরাসের কথা শুনছি একটা ভয় কাজ করে। তবে ভয়ে থাকতে চাই না। জাপানেও ফিরতে চাই না।’