দেশের ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশু পাবে হাম-রুবেলার টিকা

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২০, ২১:৪২

 ‘১৮ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল হাম-রুবেলার টিকা ক্যাম্পেইন’

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশ জুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকা দিতে ১৮ মার্চ থেকে তিন সপ্তাহের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। ১৮ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৯ মাস থেকে ১০ বছরের কম বয়সি সব শিশুকে এক ডোজ করে ‘এমআর টিকা’ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ১২ মার্চ জাতীয় হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২০ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সংম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সম্মেলনে জানানো হয়, এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সারাদেশের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে এক ডোজ এমআর টিকা দেওয়া হবে। পূর্বে এই এমআর টিকা পেয়ে থাকলেও আবার দিতে হবে। ক্যাম্পেইনটি দুই ভাগে পরিচালিত হবে। ১৮ থেকে ২৪ মার্চ ক্যাম্পেইনের প্রথম সপ্তাহে পালিত হবে। এতে সারাদেশের ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৮৯টি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি বা সমপর্যায় পর্যন্ত অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের এক ডোজ এমআর টিকা দেওয়া হবে। ২৮ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় সপ্তাহে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪৪টি নিয়মিত, স্থায়ী ও অতিরিক্ত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে কমিউনিটির উর্দ্দিষ্ট শিশু এবং যারা বিদ্যালয়ে যায় না বা প্রথম সপ্তাহে বিদ্যালয়ে টিকা নেয়নি, তাদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী এক ডোজ এমআর টিকা দেওয়া হবে। ক্যাম্পেইন শুরুর দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া টিকাদান ক্যাম্পেইন চলবে। কেন্দ্রগুলোতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সাল নাগাদ দেশ থেকে হাম-রুবেলা দূরীকরণে আগামী ১৮ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল দেশব্যাপী পরিচালিত হতে যাচ্ছে জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন-২০২০। এর আগে ২০০৬ থেকে ২০১০ সালে হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন এবং ২০১৪ সালে দেশে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। ফলে হাম-রুবেলা রোগের প্রাদুর্ভাব বহুলাংশে কমে যায়। জাহিদ মালেক বলেন, বিগত কয়েক বছরে আবার দেশে হাম-রুবেলার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে প্রতি ১০ লাখে হাম রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ দশমিক ৬ জন, যা ২০১৯ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশশিক ১ জনে। তিনি আরো বলেন, জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় বরাবরের মতো এবারও সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ক্যাম্পেইন সফল করতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন বলে জানান।

জাহিদ মালেক বলেন, ঝুঁকিতে থাকা শিশু, অর্থাত্ দোকান বা বাজার, কারখানা, রাইস মিল ইত্যাদিতে কর্মরত মায়েদের শিশু, বেদেবহরের শিশু, সুবিধাবঞ্চিত শিশু যারা রেল ও বাস স্টেশনে ঘুমায়, হাসপাতালে ভর্তি বা মায়েদের সঙ্গে অবস্থানরত শিশু, জেলখানায় মায়েদের সঙ্গে অবস্থানরত শিশু, পতিতালয়ের শিশু, বস্তির শিশু ও দুর্গম এলাকার শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য সেসব এলাকায় আলাদা টিকাদান কেন্দ্র পরিচালিত হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পেইন শুরুর দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া টিকাদান কেন্দ্রগুলো সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে।