পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা সদর ও সুজানগর উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরবর্তী স্থানে অব্যাহতভাবে পদ্মা থেকে বালু উত্তোলনের ফলে দুই উপজেলার অন্তত ২০ গ্রামে ভাঙনের পাশাপাশি তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার বিঘার ফসলি জমি। গত বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী নদী পাড়ে মানববন্ধন করেছেন। ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর অভিযোগ, পাবনা সদরের ভাঁড়ারা থেকে সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ পর্যন্ত পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র। এতে সদরের বাহিরচর, কোলচরী, চরভবানীপুর, বাগচীপাড়া, ভাদুরডাঙ্গী, সুখচর, সুজানগর উপজেলার চর খলিলপুর, নাজিরগঞ্জ, হাজারবিঘা, বিশ্বনাথপুর, সাগরকান্দি, চরসুজানগরসহ পদ্মা পাড়ের অন্তত ২০ গ্রামে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। অসময়ে এমন ভাঙনে এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে উঠতি রবিশস্যসহ আড়াই হাজার বিঘা ফসলি জমি। জীবিকা অর্জনের একমাত্র সম্বল হারিয়ে চাষিরা এখন দিশেহারা। বাহিরচর গ্রামের হোসেন আলী বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে আমাদের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, উঠতি মসুর ও সরিষাসহ দশ বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। বালু তোলা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
চরতারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হক টুটুল বলেন, প্রভাবশালীরা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
পাবনা সদর থানার ওসি নাসিম আহমেদ বলেন, পুলিশ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নয়। বালু উত্তোলন প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের যে কোনো অভিযানে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে আসছি। জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। আবার অনেক সময় খবর পাওয়ার পরপরই অভিযানে যাই। অথচ তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অভিযান সফল হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
