প্রাণিজগত্

গিরগিটি রং বদলায়

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০৫

 

গিরগিটি মূলত নিরীহ সরীসৃপ। কিছু অদ্ভুত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের জন্য বিখ্যাত। পৃথিবীতে প্রায় ১৬০ প্রজাতির গিরগিটি রয়েছে। এদের বেশিরভাগ আফ্রিকা, মাদাগাসকার, স্পেন ও পর্তুগাল নিবাসী। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কাতে বেশি দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশে যেমন ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা ও হাওয়াইয়ের বনভূমিতেও এরা বসবাস করে।

এই সরীসৃপ প্রাণীর প্রজনন মৌসুমে পুরুষগুলোর দেহে প্রজননের রং খোলে। এক পুরুষ গিরগিটির সঙ্গে অন্য পুরুষ গিরগিটির প্রতিযোগিতা হয়। পুরুষ গিরগিটি শরীরের ভেতরে থাকা মেলামিনগুলোকে লাল রঙে পরিবর্তন করে স্ত্রী গিরগিটির কাছে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলে। সঙ্গিনীকে ভোলানোর জন্যও প্রজনন ঋতুতে সে তার শরীর লাল করে ফেলে। অনেক সময় দুটো পুরুষ গিরগিটি মারামারি করলেও মুখমণ্ডল ও মাথা টকটকে লাল দেখায়। সদ্য ফোটা ও অল্প বয়স্ক বাচ্চার রং হালকা সোনালি-হলুদ থেকে বাদামি হয়। প্রজনন-পরবর্তী দেহের রং কালচে বা কালচে ধূসর। প্রজনন মৌসুম ছাড়াও শিকারি প্রাণী বা শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য দেহের রং পরিবর্তন করে হয় শত্রুকে ভয় দেখায়, না-হয় প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে যায়।

কিভাবে শরীরের রং বদলায় গিরগিটি? সুইস গবেষকের মতে, ত্বকের কিছু কোষের ক্রিস্টালে সজ্জার পরিবর্তন ঘটিয়েই এই রং বদল করে। মনে করা হতো শরীরের মধ্যে রঙিন পিগমেন্ট একত্র করা ও ছড়িয়ে দেওয়ার ফলেই রং বদলাতে থাকে তারা। কিন্তু নতুন এই গবেষণা বলছে, কিছু বিশেষ ক্রিস্টাল শরীরে থাকার ফলে তৈরি হয় এক বিশেষ আয়না। যাতে আলো প্রতিফলনের ফলে রং বদলায় গিরগিটির শরীরের। আবার ঠান্ডাও রাখে গিরগিটির শরীর। সরীসৃপরা দুইভাবে রং বদলায় শরীরের। গাঢ় রঙের জন্য পিগমেন্ট কোষ থাকে শরীরে। উজ্জ্বল নীল বা সাদা রং আসে এইসব ক্রিস্টাল থেকেই। নীলে ক্রিস্টালের সঙ্গে হলুদ পিগমেন্ট কোষ মিশে তৈরি হতে পারে উজ্জ্বল সবুজ রং। পিগমেন্টের স্থান পরিবর্তনের ফলেও অনেক সময় শরীরের রং বদলায়। কখনো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে মেলানিন কোষ, কখনো বা এক জায়গায় পুঞ্জীভূত হয়ে থাকতে পারে মেলানিন কোষ। এই ছড়িয়ে পড়া বা এক জায়গায় জমা হওয়ার ফলেই হালকা থেকে গাঢ় রং ধারণ করে শরীর। প্যান্থর ক্যামেলিয়নের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের কারণে সবুজ থেকে হলুদ হয়ে ওঠা রং চোখে পড়ে।

পরিবেশের জন্য বিশেষ উপকারী গিরগিটি ‘রক্তচোষা’ নামে পরিচিতির কারণেই প্রাণ হারাচ্ছে। আতঙ্কিত লোকজন দেখামাত্রই ইটচাপা কিংবা লাঠির আঘাতে মেরে ফেলে এই সরীসৃপ প্রজাতিকে। অথচ এই প্রাণীটিই আমাদের প্রকৃতির পরম বন্ধু। ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে শাকসবজি খেত বা গাছগাছালিপূর্ণ বাগানকে সুরক্ষা দেয়। এদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এরা নির্বিষ—কামড়ায় না। এদের প্রধান খাবারই হলো পোকামাকড়।