আমদানিও কমছে ব্যাপকহারে

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২০, ২২:২১

গত কয়েক মাস ধরেই আমদানিতে প্রত্যাশিত গতি নেই। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চীনে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আমদানিতেও ধাক্কা লেগেছে। দেশের আমদানি-রপ্তানির মূল কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে আমদানি কমেছে ২০ শতাংশের ওপরে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসেও রপ্তানি কমতে পারে।

বাংলাদেশের আমদানিকৃত পণ্যের বেশিরভাগই আসে চীন থেকে। চীনে করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় সেখান থেকে রপ্তানির কার্যক্রম শুরু হলেও স্বাভাবিক গতি ফেরেনি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরেও পণ্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট না আসায় পণ্যের বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বেশকিছু মালামাল খালাস হচ্ছে না। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. ফখরুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে বেশকিছু মালামাল খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। মূলত পণ্য আসলেও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট না আসায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, গত জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৬ লাখ মেট্রিকটন পণ্য। পরবর্তী মাস ফেব্রুয়ারিতে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৮ লাখ ১৯ হাজারে। অর্থাত্ এক মাসে এই বন্দর দিয়ে আমদানি কমেছে ২০ শতাংশ।

অবশ্য চীনে করোনা রোগীর সংখ্যা কমায় সেখানে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ছুটি ও করোনার কারণে দেরি হওয়ার পর গত মাসের শেষ দিকে চীনের কিছু বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ শুরু হয়। বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সিনিয়র সহ-সভাপতি এ টি এম আজিজুল আকিল ইত্তেফাককে বলেন, শুক্রবার উহান থেকেও (করোনা ভাইরাস যে শহর থেকে শুরু হয়েছিল) রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সবমিলিয়ে চীনের বন্দরের কার্যক্রম ৭০ শতাংশ চালু হয়েছে। তবে সেখানে এখন এক শহর থেকে অন্য শহরে গেলেও কোয়ারেন্টাইনে (দুই সপ্তাহ আলাদা করে রাখা) রাখা হচ্ছে। ফলে পুরো কার্যক্রম শুরু হতে আরো সময় লাগবে।

এদিকে আমদানির পাশাপাশি রপ্তানিতেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাস জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি কমেছে, রপ্তানি কমেছে পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে পৌনে ৫ শতাংশ। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। রপ্তানিকারকরা আশঙ্কা করছেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পরবর্তী মাসগুলোতে রপ্তানি আরো কমতে পারে। এরই মধ্যে করোনা ভাইরাস ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে বিক্রি কমে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পণ্য আপাতত না পাঠানোর জন্য এখানকার রপ্তানিকারকদের অনুরোধ জানিয়েছেন। এটি সার্বিকভাবে অর্থনীতির জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদরাও।