বরিশালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে একের পর এক মাদকের চালান উদ্ধার হলেও থামানো যাচ্ছে না মাদকের আগ্রাসন। এক দিনেই পৃথক পৃথক অভিযানে গাঁজার গাছ ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। পৃথক এ অভিযানে ১২টি গাঁজা গাছ, প্রায় আড়াইকেজি গাঁজা ও ৫০ পিস ইয়াবাসহ ১০ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এরমধ্যে শুক্রবার রাতে ১২টি গাঁজা গাছসহ বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া এলাকার মৃত জাবেদ আলী হাওলাদারের পুত্র আল-আমিনকে আটক করেছে পুলিশ। একই উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের সিংহেরকাঠী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ ইউসুফ আলীকে আটক করেছে পুলিশ। একই রাতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে নগরীর রূপাতলীস্থ লালদীঘির পাড় ও পল্লী বিদ্যুত্ অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে দুই কেজি গাঁজাসহ সাত জনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়াও বাকেরগঞ্জ উপজেলার মহেশপুরের মোল্লারহাটে অভিযান চালিয়ে ৪৬০ গ্রাম গাঁজাসহ রুস্তুম শিকদারকে আটক করে র্যাব-৮।
মাদকের এ ভয়াবহতার সাথে যুক্ত হয়েছে প্রেমের ফাঁদ ও যৌন সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়। অতি সম্প্রতি বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এ চক্রের ৫ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ আটক করায় নগরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে এই চক্রে আরো তরুণীরা জড়িত থাকার তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। চক্রটি তরুণীদের মাদকাসক্ত করে যে কোনো ধরনের প্রতারণা করিয়ে থাকে। তরুণীদের মাদক বিক্রির কাজেও ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান ইত্তেফাককে বলেন, প্রতারক চক্র দুই মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে মানুষকে হয়রানি করে। প্রথমত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রলোভন দেখিয়ে ভাড়া ফ্লাটে নিয়ে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় চক্রের অপর সদস্যদের দিয়ে ব্লাকমেইল করা। দ্বিতীয়ত পুলিশ পরিচয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে অর্থ আদায় করা। পুলিশ কমিশনার বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে এবং পুলিশও ভিন্ন কৌশলে প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদকসহ যারা র্যাব-পুলিশের হাতে গ্রেফতার হচ্ছে তারা কিছুদিনের মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুরোনো পেশায় যুক্ত হচ্ছে। নগরীর প্রবেশদ্বার পর্যন্ত নানান পরিবহনে আসে মাদক দ্রব্য। নিরাপদ স্থানে তা নামিয়ে দ্রুত গতি সম্পন্ন আলফা মাহেন্দ্র যোগে খুব সহজেই নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে মজুত করা হয়। মাদক বহনের সময় এ যানবাহন বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলে। তখন দুর্ঘটনায় পথচারীর প্রাণ হারালেও তারা সেদিকে ফিরে তাকান না।
