ছাত্রী উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় খুন

কুমিল্লায় তিন দিনেও ঘাতক গ্রেফতার হয়নি

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২০, ২২:৩১

কুমিল্লার দেবিদ্বারে স্কুলছাত্রী বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে সালিশ বৈঠক করায় ঐ বৈঠকে ছাত্রীর জেঠাতো ভাই আবদুল আউয়ালকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে বখাটে আসলাম। গত বৃহস্পতিবার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামে এ ঘটনার তিন দিনেও গতকাল শনিবার পর্যন্ত মূল ঘাতককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ ঘাতক আসলামের বাবা ও এক ভাইকে গ্রেফতার করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। প্রকাশ্য সালিশ বৈঠকে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় শনিবারও স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল। তারা অবিলম্বে মূল ঘাতককে গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আউয়ালকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার।

পুলিশ, নিহতের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রঘুরামপুর গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আসলাম (২২) তার প্রতিবেশী আবদুস সাত্তারের এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। এ নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান অফিসে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও আসলামকে কোনোভাবেই নিবৃত্ত করা যায়নি। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সকালে ঐ স্কুলছাত্রী তার নানার বাড়ি পার্শ্ববর্তী কালিকাপুর গ্রামে বেড়াতে যায়। ঐদিন দুপুরের দিকে সে তার নানার বাড়ি থেকে মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জে তার খালার বাসায় চলে যায়। কিন্তু বখাটে আসলাম খবর পেয়ে ঐদিন স্কুলছাত্রীর নানার বাড়ি কালিকাপুরে গিয়ে তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। তাকে বের না করে দিলে সবাইকে হত্যা করা হবে বলেও চিত্কার চ্যাঁচামেচি করতে থাকে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে রঘুরামপুর গ্রামে সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। সালিশ চলাকালে একপর্যায়ে বখাটে আসলাম ও তার ১০/১২ জন সহযোগী উত্তেজিত হয়ে ঐ ছাত্রীর স্বজনদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় আসলাম তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ঐ ছাত্রীর জেঠাতো ভাই আবদুল আউয়ালের ঘাড়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।