পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষ সুখের সন্ধানী। সুখের আশায় মানুষের পথ চলা। সুখের পিয়ালায় মুখ দিতে দিন-রাত অবিরাম মরণপণ চেষ্টা চলছে। সবাই যেন সুখের পিছনে প্রতিযোগিতা করছে। বৈধ আর অবৈধ উভয়ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে এই বিরামহীন প্রতিযোগিতা। কোথায় এর গন্তব্য? কোথায় এর পরিসমাপ্তি? তা কেউ জানে না। অনির্দিষ্ট পথেই সুখের নির্দিষ্টতা খুঁজে বেড়াচ্ছে একুশ শতকের সুখ সন্ধানী প্রতিযোগিরা। এমনকি সুখের আশায় মানুষগুলো অন্যায় করতেও দ্বিধাবোধ করছে না। ক্ষেত্রবিশেষে পন্থাটা হয়ত ভিন্ন হয়। যেমন কাউকে গুম, জিম্মি, অথবা ছুরি দিয়ে আঘাত করে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে সুখ সন্ধান করছে। আবার নিম্নোক্ত মাধ্যমেও অর্থ উপার্জন করছে। যাকে ভদ্র সমাজে অভদ্রের কারসাজি বলা চলে। আর তা হলো কলম ঠেকিয়ে টাকা সংগ্রহ করা। যা সমাজে ঘুষ নামে পরিচিত। কেউ বা আবার তাকে সপ্ট মানিও বলে থাকেন। আবার সত্পথে অর্থ উপার্জন করছে না এমনটা নয়। তবে পরিসংখ্যানটা কত হবে তা প্রশ্নবিদ্ধ। তবে সবার উদ্দেশ এক, অর্থ উপার্জন করে একটু সুখে-শান্তিতে বসবাস করা। আসলেই কি শুধু অর্থ উপার্জন করে সুখ পাওয়া যায়? অর্থ উপার্জনের পিছনে এই প্রশ্নটা মূল্যহীন। কেননা অর্থের মধ্যেই মানুষ সুখের মূল চাবিকাঠি দেখতে পায়। তাই যে-কোনো উপায়ে টাকা উপার্জন করে সুখটাকে খুব কাছ থেকে দেখতে চায়। এটাই হয় টাকার পিছনে ছুটা মানুষগুলোর মূল লক্ষ্য। একটু চোখ, কান খোলা রেখে তাকালেই এমন হাজারও ঘটনা আমাদের মাঝে পেয়ে যাবো অর্থই দুখের জন্য কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থকড়ি থাকলেই সুখ হবে সেটা বলা যায় না। সুখ বিষয়টা সম্পূর্ণ নিয়তির হাতে। আর এই সুখটাকে খুঁজে পেতে মানুষগুলোকে শহরেই আসতে হবে এর কোনো বাধা-ধরা নিয়ম নেই। গ্রামে বসেই হাজার হাজার টাকা ইনকাম করা যায়। সুখের সন্ধানে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু আমাদের মাঝে একটা বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গেছে শহরে গেলেই আমরা ভালো থাকবো। সুখে-শান্তিতে বসবাস করবো। আসলে কি সবাই এই ব্যস্ত শহরে সুখে থাকতে পারে? বিষয়টা আলোচনাসাপেক্ষ। তবে পরিসংখ্যানটা সঠিক মাত্রায় কতভাগ হবে তা বলা যায় না। কারো কারো ক্ষেত্রে হিতে বিপরীতও হয়েছে। যে সুখের আশায় গ্রাম ছেড়েছিল, শহরে এসে তাও হারাতে হয়েছে। যে মানুষগুলো শহরে এসে সুখের আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার আশায় কষ্ট করে। সেই কষ্ট যদি গ্রামে বসে করে তাহলে দ্বিগুণ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে। তবুও ‘ঢাকায় টাকা ওড়ে’ সেই যে ছোট সময় লোকমুখে শুনা বাক্যটি যেন গ্রাম্য মানুষগুলোর অন্তকরণে গেঁথে গেছে। তাই গ্রামকে তারা তুচ্ছ ভেবে দূরে ঠেলে দিয়ে অজানা সুখের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে প্রাণের শহর ঢাকায়। এমন হাজারও লোক রয়েছে যারা নিজের সহায়-সম্বলটুকু বিক্রি করে গ্রাম থেকে শহরে এসে কাজের সন্ধানে ভীড় জমাচ্ছে দিনের পর দিন। যে-কারণে পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল আর ব্যস্ত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা হচ্ছে বিশ্ব দরবারে অবাসযোগ্য ব্যস্ত নগরী। তাদের আসার পিছনে মূল কারণ একটি আর তা হলো কাজ। যে-কাজের মাধ্যমে নিজে এবং পরিবার উভয়কে সুখে রাখবে। কিন্তু কতজন পায় এই কাজ, তা দেখার বিষয়। তার উপরে থাকার বিষয়টা আরও জটিল। কে দিবে একটু মাথা গোঁজার জায়গা। উপায়ন্ত না পেয়ে রাস্তার পাশে বা বস্তিতে মাথা গোঁজার জায়গাকে বেছে নিতে হয়। কিন্তু তাদেরকে দেখার জন্য এই ব্যস্ত শহরে কম মানুষই আছে। সবাই সবার মত নিজের জায়গায় এত ব্যস্ত কেউ কারো প্রতি তাকানোর সময়টা পর্যন্ত নেই। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে এই দায়িত্ব পালনের ফুরসত কোথায়? মানুষগুলোর জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে ব্যস্ততা। তাই বলে কি নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা, আবেগ, অনুভূতি ভুলে যেতে হবে? হতদরিদ্রের প্রতি সাহায্যের হাতটা বাড়াবো না? তাদের কষ্টটাকে নিজের কষ্ট ভেবে তাদের কষ্ট দূর করতে এগিয়ে আসবো না? যদি না আসি তাহলে বুঝতে হবে মানবতার মৃত্যু হয়েছে। জয় হয়েছে বিবেকহীনতার। আর মানবতার হাতকে প্রসারিত করার এখনি সময়। আর তা হলো রাস্তায় পড়ে থাকা বস্ত্রহীন মানুষগুলোর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এই প্রচণ্ড শীতে তাদের নতুন শীতের জামা না হোক অন্ততপক্ষে পুরাতন জামা দিয়েও মানবতার হাসি ফুটাতে পারি। যদি তা করা যায় জয় হবে মানবতার।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
