‘আহা, আজি এ বসন্তে, কত ফুল ফোটে, কত পাখি গায়...’ রবীন্দ্রনাথ বসন্তের প্রেমে পড়ে লিখেছিলেন এমন গান। চারদিকে সবুজের হাতছানি, পাখির কিচিরমিচির ডাক আর রঙিন সব ফুলে বসন্ত প্রকৃতিতে হাজির হয়েছে। আজ কথা হোক বসন্তের কিছু ফুল নিয়ে।
কাঠগোলাপ
দেখতে মোটেও গোলাপের মতো নয়, তবু নামের সঙ্গে যুক্ত ‘গোলাপ’। বসন্ত তার ফোটার শুভক্ষণ। আর গ্রীষ্মে পায় পূর্ণতা। অসাধারণ এই ফুলটি উঁচু গাছে ছড়ানো ডালপালায় দেখা দেয়। মাটিতে ঝরে পড়লেও অটুট থাকে মিষ্টি ঘ্রাণ। এই ফুল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র, পূজার উপকরণ এবং বৌদ্ধদের কাছে মৃত্যুহীন প্রাণের প্রতীক।
কৃষ্ণচূড়া
পাতা ও মনকাড়া ফুলের জন্য আমাদের দেশে কৃষ্ণচূড়া বেশ জনপ্রিয়। প্রকৃতির রুক্ষতা আর জীবনে যান্ত্রিকতাকে ভুলিয়ে আমাদের মনে এনে দেয় অপরিমেয় প্রশান্তি। উজ্জ্বল লাল রঙের এই ফুলের শুভাগমন ঘটে বসন্তের শুরুতে।
পলাশ
‘হলুদ গাঁদার ফুল, রাঙা পলাশ ফুল, এনে দে এনে দে, নৈলে বাঁধব না, বাঁধব না চুল... ’ এমন করেই নজরুলসংগীতে জায়গা করে নিয়েছে পলাশ ফুল। শীতের শুরুতে পলাশ গাছের পাতা ঝরে গেলেও বসন্তে নতুন পাতার সঙ্গে আসে ফুল। টকটকে লাল ছাড়াও হলুদ ও হালকা লালচে কিংবা কমলা রঙের পলাশ ফুলও চোখে পড়ে। এই ফুল পাখির খুব পছন্দ, তাই হরেক পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দে মুখর থাকে পলাশ বাগান।
শিমুল
লাল আবিরে সাজানো বৃক্ষ। শিমুল গাছের কথাই বলছি। গাছ ভর্তি লাল টকটকে ফুলের কোনো সৌরভ নেই, তবে সৌন্দর্য আছে। শিমুলগাছ তুলার চাহিদা পূরণ করে। বসন্তে শিমুলগাছে ফুল আসে। আর এই ফুলের আবিরে অল্প দিনেই ছেয়ে যায় গাছ। শিমুল ফুলের মধু পাখিদের প্রিয় খাবার।
নাগলিঙ্গম
বাংলাদেশে খুব কম সংখ্যক নাগলিঙ্গম গাছ রয়েছে। এই ফুলের গন্ধ আসাধারণ। বসন্তের শুরু থেকে গাছে ফুল আসা শুরু করে, স্থায়ী হয় গ্রীষ্মের শেষাবধি। এই ফুলের পরাগচক্র অনেকটাই সাপের ফণার মতো দেখতে। এ কারণেই গাছটির নাম নাগলিঙ্গম হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
এছাড়াও বসন্ত ঋতুতে প্রধানত অশোক, আকড়কাঁটা, হিমঝুরি, ইউক্যালিপটাস, রক্তকাঞ্চন, কুরচি, কুসুম, গাব, গামারী, গ্লিরিসিডিয়া, ঘোড়ানিম, জংলিবাদাম, জ্যাকারান্ডা, দেবদারু, নাগেশ্বর, পলকজুঁই, পাখিফুল, পালাম, বুদ্ধনারিকেল, মনিমালা, মহুয়া, মাদার, মুচকুন্দ, রুদ্রপলাশ, শাল, স্বর্ণশিমূল, ক্যামেলিয়াসহ নাম না জানা আরো ফুল ফোটে।
আলোকচিত্রী :মো. নাসের ইয়ামিন
