পটিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসন প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে। পটিয়া উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বিভিন্ন ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানারে ছেঁয়ে গেছে।
এদিকে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ-বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর, বিএনপি নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার ও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ঘটনায় পটিয়ার নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সবাই আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থী নৌকার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন পটিয়ার দুই দুইবারের নির্বাচিত এমপি সামশুল হক চৌধুরী। দলীয় মনোনয়নের আগে দলের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা ও দলীয় কিছুটা কোন্দল ছিল। কিন্তু বর্তমানে কোন্দল ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার বিজয়ের জন্য নেতা-কর্মীরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম বিএনপি’র গত দু’বারের নির্বাচিত এমপি গাজী মো. শাহজাহান জুয়েলকে ডিঙ্গিয়ে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ছিনিয়ে নিয়েছেন। ফলে জুয়েল সমর্থিত নেতা-কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী জানান, বিগত ১০ বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে কাছাকাছি থাকা এবং বিভিন্নভাবে আর্থিকসহ সাহায্য-সহযোগিতা করায় নেতা-কর্মীরা বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে চলেছে। ফলে নির্বাচনে সাধারণ জনগণ এলাকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে তৃতীয়বারে মতো এমপি নির্বাচিত করবেন বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী এনামুল হক এনাম বলেন, আমি প্রার্থী হলেও দলের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের নেতা-কর্মীরা তার সমর্থনে কাজ করছে। তবে বর্তমান সরকার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা করা হচ্ছে না। প্রতি রাতে পুলিশ তার নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে গায়েবী মামলা দিয়ে জেলে পাঠাচ্ছে। ফলে নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে পারছে না। সম্প্রতি তার অফিসে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে দুটি অস্ত্র উদ্ধারের নামে মিথ্যা সাজানো মামলা দিয়ে তার নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না। তারপরও জনগণের সহযোগিতায় আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট কেন্দ্র পাহারা দিয়ে নির্বাচন চালিয়ে যাবেন বলে জানান।
