স্পোর্টস রিপোর্টার
মিরপুরের উইকেট বরাবরের মতোই সকালে বোলারদের বুকে টেনে নেয়। এখানে আগে ব্যাট করা দলগুলোর সংগ্রামের চিত্র বেশ নিয়মিতই দেখা যায়। গতকালও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রথম বিভাগ থেকে উঠে আসা পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের বোলাররা গতকাল কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ডিফেন্ডি চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে। শক্তিমত্তায় দুই দলের ব্যবধান অনেক হলেও সকালটা শক্তিশালী আবাহনীর ড্রেসিংরুমের জন্য সুখকর ছিল না।
ইনিংসের ২২তম ওভারে ৬৭ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে টস জিতে ব্যাট করা আবাহনী। তারপর মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞতা ও আস্থার ব্যাট ত্রাতারূপে হাজির হয়। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনরা সঙ্গ দেন সেঞ্চুরিয়ান মুশফিককে। তাতেই মূলত পারটেক্সের বাধা টপকে যায় আবাহনী। শেষ বিকালে স্বস্তির জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মুশফিক বাহিনী।
বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে পারটেক্সকে ৮১ রানে পরাজিত করেছে আবাহনী। মুশফিকের সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ২৮৯ রান তোলে আবাহনী। জবাবে ৪৮.৪ ওভারে ২০৮ রানে গুটিয়ে যায় পারটেক্স। মুশফিক ম্যাচ সেরা হন।
সকালে জয়নুল-রনিরা বল হাতে ঝড় তোলেন। ইনিংসের ষষ্ঠ বলেই লিটনকে (০) বোল্ড করেন রনি হোসেন। পরের ওভারে নাঈম শেখকে (০) ফেরান জয়নুল। একই বোলার বোল্ড করেন ১৫ রান করা শান্তকে। আবাহনীর বিপদটা ঘনীভূত হয় আমিনুল বিপ্লবকে (১৪) শাহবাজ চৌহান ও আফিফ হোসেনকে (৩) তাসামুল ফেরালে। ষষ্ঠ উইকেটে মুশফিক-মোসাদ্দেক দলের হাল ধরেন। উইকেটের স্রোত থামিয়ে ১৬০ রানের জুটি গড়েন তারা। ২৪ বল পর রানের খাতা খোলা মুশফিক লিস্ট-এ ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। তিন বছর পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সেঞ্চুরি পেলেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালে রূপগঞ্জের হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। জয়নুলের শিকার হওয়ার আগে মুশফিক ১২৪ বলে ১২৭ রান (১১ চার, ৪ ছয়) করেন।
মোসাদ্দেক ৬১ ও শেষ দিকে সাইফউদ্দিনের অপরাজিত ৩৯, তাইজুলের অপরাজিত ১৭ রানে ২৫০ পার হয় আবাহনীর স্কোর। পারটেক্সের জয়নুল ৩টি, তাসামুল ২টি করে উইকেট পান।
আবাহনীর বোলিং লাইনের বিরুদ্ধে এতবড়ো স্কোর তাড়া করা সম্ভব হয়নি পারটেক্সের। তারপরও তাদের স্কোরটা ২০০ পার হয় নাজমুল মিলনের ৫৩, তাসামুলের ৪৩, ধীমান ঘোষের ৩৬, সায়েম আলমের ২৪ রানে। আবাহনীর মেহেদী হাসান রানা ৪টি, তাইজুল ২টি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আবাহনী : ৫০ ওভারে ২৮৯/৭ (মুশফিক ১২৭, মোসাদ্দেক ৬১, সাইফউদ্দিন ৩৯*, তাইজুল ১৭*, শান্ত ১৫, আমিনুল ১৪; জয়নুল ৩/২৮, তাসামুল ২/২৯, শাহবাজ ১/৫৯, রনি হোসেন ১/৭২)
পারটেক্স : ৪৮.৪ ওভারে ২০৮ (নাজমুল মিলন ৫৩, তাসামুল ৪৩, ধীমান ঘোষ ৩৬, সায়েম আলম ২৪, জয়নুল ১৪; মেহেদী হাসান রানা ৪/৫৫, তাইজুল ২/৩০, মোসাদ্দেক ১/৬, আরাফাত সানি ১/২৫, সাইফউদ্দিন ১/৪২, আমিনুল ১/৪৪)
ফল : আবাহনী ৮১ রানে জয়ী।
