ফার্গুসনের করোনা অভিজ্ঞতা

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২০, ২১:৫৭

স্পোর্টস রিপোর্টার

ঠান্ডা তার জীবনে কম লাগেনি। অনেকবারই ঠান্ডা লেগে গলা ব্যথা হয়ে বিছানা নিতে হয়েছে লোকি ফার্গুসনকে। কিন্তু এবার সামান্য ঠান্ডায় যে অভিজ্ঞতা হলো, সেটা আগে কখনো হয়নি। কারণ, এবার ঠান্ডা লাগার পর গলা ব্যথার অভিযোগ তুলতেই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে তাকে আইসোলেশনের পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে অবশ্য সব ভয়কে মিথ্যে করে দিয়ে ফার্গুসনের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। এখন তিনি পরিবারের সঙ্গেই আছেন। আর সেখানে গিয়ে কথা বলেছেন নিজের ঐ অভিজ্ঞতা নিয়ে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ বাতিলের পর অকল্যান্ডে পৌঁছানো ফার্গুসন বলছিলেন, ‘ঐ সময় অনেক টেক্সট ম্যাসেজ পেয়েছি। সবার দুশ্চিন্তা ছিল। তবে আমি দ্রুতই ঘোষণা করতে পেরেছি যে, এটা কেবলই একটু ঠান্ডা ছিল। এখন বাড়ি ফিরে আসতে পেরে ভালো লাগছে।’

ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড দলের সঙ্গে সিডনিতে ছিলেন ফার্গুসন। কিন্তু নিউজিল্যান্ড সরকার একের পর এক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করছিল। সেই সঙ্গে দেশের বাইরে যারা আছেন, তাদের দ্রুত দেশে ফিরে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক ‘হোম আইসোলেশনের’ জন্য বলা হয়েছে। ফলে সিরিজটাই বাতিল করে দেওয়া হয়।

আর এর আগেই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ফার্গুসন কোভিড-১১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। অবশ্য ফার্গুসন মনে করেন, এতো হইচই করার মতো কিছু ঘটেনি। তিনি বলছিলেন, ‘আসলে আমি যেমন ছিলাম, সেটা একটু বাড়িয়েই প্রচার করা হয়েছে। আমার খুব, খুব মৃদু ঠান্ডা লেগেছিল। ফলে আমাকে ফিজিও ও সাপোর্ট স্ট্যাফদের নির্দেশনা মানতে হয়েছে। এর ফলে আমাকে একদিন হোটেলে নিজেকে আটকে রাখতে হয়েছে।’

তবে করোনা পরীক্ষার এই অভিজ্ঞতার চেয়েও খালি মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা ফার্গুসনকে বেশি বিস্মিত করেছে। তিনি বলছিলেন, ‘এই অবস্থায় খেলা এবং দর্শকশূন্য মাঠে খেলাটা অবশ্যই বিচিত্র একটা অভিজ্ঞতা। এ রকম অভিজ্ঞতা সাধারণত হয় না। সেই সঙ্গে খেলাটা যেভাবে শেষ হলো, সে নিয়েও আমরা একটু হতাশ। এরপর রাতে আমার লালা সংগ্রহ করা হলো এবং চিকিত্সকের সঙ্গে কথা বলতে হলো। ভাগ্যক্রমে আমার কোনো সমস্যা হয়নি এবং এখন আমি দেশে ফিরতে পেরে খুব খুশি।’

শেষ পর্যন্ত নিজে অসুস্থ না হলেও বিশ্বব্যাপী যা চলছে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন ফার্গুসন। তিনি বলছেন, এখন ক্রিকেট খেলার চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে মানুষকে সুস্থ রাখা।