স্পোর্টস রিপোর্টার
গত শনিবার বিসিবি একাডেমি মাঠে ঢুকতেই তামিম ইকবালের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রাইম ব্যাংকের কোচ সরোয়ার ইমরান। হাত না বাড়িয়ে কোচের সঙ্গে ‘এলবোশেক’ই করলেন তামিম।
গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে পারটেক্স স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে জয়ের পর দেখা গেল আবাহনীর ক্রিকেটাররাও ‘হ্যান্ডশেক’ পর্বে হ্যান্ডশেক করছেন না। অনেককেই দেখা গেল এলবোশেক করছেন। আবার কেউ কেউ ভুলে হ্যান্ডশেকও করলেন।
বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক বাংলাদেশেও বিরাজ করছে। এর মাঝেই অনেক সতর্কতাসহ গতকাল শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ। ক্রিকেটাররা নিজেরাও সতর্ক থাকছেন মাঠে। হ্যান্ডশেক না করা এবং ভুলে করে ফেলাটা পেছনে অনভ্যস্ততাই মূল কারণ বলে জানান মুশফিক। গতকাল ম্যাচ শেষে আবাহনীর অধিনায়ক বলেছেন, ‘মাঝে মাঝে ভুলে যাই। এখনো পরিণত হয়নি। এটা নিয়ে সবাই একটু শঙ্কিত। যতটুকু সচেতন এবং সতর্ক থাকা যায়।’
বিসিবি থেকেও বার্তা দেওয়া হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো ও ক্রিকেটারদের। গতকাল মিরপুরে সেঞ্চুরি করে আবাহনীকে জেতানো মুশফিক বলেছেন, ‘হ্যান্ডশেক করতে নিষেধ করা হয়েছে। পানি পানের বিরতিতে একটু দূরে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। সবাই চেষ্টা করছে। পানির বোতলও প্রত্যেকে আলাদাভাবে খাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি সচেতন থেকে খেলার।’
করোনার কারণে মাঠে দর্শকদের উপস্থিতি নিরুত্সাহিত করা হয়েছে। তারপরও গতকাল মিরপুরের গ্যালারিতে দর্শক দেখা গেছে। সেটা নেহাত হাতেগোনা। সর্বসাকুল্যে জনা পঞ্চাশেক দর্শক ছিলেন। ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতি মুশফিকের বার্তা ছিল এমন, ‘অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটাও দেখেছি, মাঠে কেউ নেই। বল বাউন্ডারিতে যাচ্ছে—লকি ফার্গুসন নিজে গিয়ে বল কুড়িয়ে আনছে। সেখানে বাংলাদেশের মানুষ তো ক্রিকেটপাগল। তারা যেন নিজেদের সচেতন রাখে বা বসলেও দূরত্ব বজায় রাখে। মাস্ক ব্যবহার করে। কারণ একজনের হলে অন্যজন আক্রান্ত হতে পারে। আমি মনে করি তাদের অবশ্যই সচেতন থাকা উচিত। তারা যদি আমাদের ভালোবাসতে পারে, আমাদেরও তাদেরকে ভালোবাসা উচিত। আমার অনুরোধ থাকবে—সবাই যেন সচেতন থাকে।’
সারাবিশ্বেই করোনার কারণে খেলাধুলা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে। তেমন সিদ্ধান্ত হলে তামিমরা খেলবেন না প্রিমিয়ার। গতকাল অনুশীলনে এসে তামিম বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের বলা হয়েছে খেলার জন্য। তাই আমরা খেলছি। যদি বলা হয় তাহলে আমাদের হয়তো খেলা বন্ধ করতে হবে। আমরা ওভাবেই কাজ করব। সবার একটু সতর্ক থাকতে হবে। যদি দেখা যায় হাত ধরার দরকার নেই, তাহলে দরকার নেই। সবাই এটা বুঝতে পারছে যে এটা সবার ভালোর জন্যই করা হচ্ছে।’
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও মনে করেন সতর্ক থাকা দরকার সবার। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এসব খেয়াল রাখলে সবার জন্যই ভালো। যেহেতু ক্রিকেট এরিনাতে সবাই কম-বেশি একজন আরেকজনকে চিনি, তো সবাইকে যদি এই বার্তাটা দিতে পারি, একজন আরেকজনের ব্যাপারে সতর্ক হই, সচেতন হই, তাহলে মনে হয় সবার জন্য ভালো।’
