পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারী হত্যা মামলায় শীর্ষ জঙ্গি জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব গান্ধীসহ চার জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। রবিবার বেলা ১১টার দিকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার এই রায় ঘোষণা করেন। তবে এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিন আসামিকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পূর্ব ভূতগ্রামের জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব গান্ধী (৩০), বগুড়ার শাহজাহানপুরের ক্ষুদ্র কুষ্টিয়া গ্রামের রাজীবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাঁধন (৩০), পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানার দেবগঞ্জ কামাতপাড়ার আলমগীর হোসেন (৩৫) ও দেবীগঞ্জ থানার প্রধানাবাদ মসজিদপাড়ার রমজান আলী (২২)। হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্তরা হলেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানার হারেজ আলী, খলিলুর রহমান ও রানা। তবে রানা এখনো পলাতক। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির শীর্ষ নেতা। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব গান্ধী গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা ও হত্যাকাণ্ডেরও অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী। রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন রাজীব গান্ধীসহ পাঁচ আসামি। তবে বাঁধন এখনো পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত চার আসামিকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের পৃথক মামলায় যথাক্রমে পাঁচ ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া উভয় মামলায় আসামিদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১০ আসামির মধ্যে তিন জন বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। ফলে সাত জনের ওপর মামলার বিচারকার্য চলে। রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি ১১ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিন মামলার রায় একসঙ্গে ঘোষণা করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মোটরসাইকেলে এসে তিন ব্যক্তি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানার সোনাপোতা গ্রামে শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়িয় মঠের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। এ সময় তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হত্যাকারীরা গোলাপ নামে এক পূজারিকে লক্ষ করে গুলি ছুড়ে। পরে হামলাকারীরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রবীন্দ্র রায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অস্ত্র ও বিস্ফোরণ আইনে আরো দুটি মামলা করে।
