দামুড়হুদায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি জাহিদ হোসেনের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের লোকজন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন তাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে, আর পুলিশ বলছে হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই জানা যাবে আসলে কী ঘটেছিল। গতকাল রবিবার চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহিদ হোসেনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে দামুড়হুদার জয়রামপুর গ্রামের কলোনিপাড়ায় দাফন করা হয়েছে। এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের দুজন ম্যাজিস্ট্রেট এনডিসি সিব্বির আহমেদ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিবানী সরকার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। তবে নিহতের চাচা পিয়ার আলী ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম রবিবার দাফনের আগে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, জাহিদ হাসান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চুয়াডাঙা-১ আসনের সংসদ সদস্য (সাবেক হুইপ ) সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের স্নেহভাজন ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা সবাই আওয়ামী লীগ পরিবারের। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জাহিদ হাসানকে রেলস্টেশনপাড়ার সীমান্ত যুব উন্নয়ন সমিতির সামনে থেকে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। জাহিদ হাসানের স্ত্রী লিপি খাতুনের অভিযোগ, পুলিশ গাড়িতে তুলে থানায় নেওয়ার সময় আমার স্বামীকে চরম নির্যাতন করে, ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। লিপি খাতুন তার স্বামীর মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। তবে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আব্দুল খালেক সাংবাদিকদের বলেন, জয়রামপুর থেকে জাহিদকে দুই বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে দামুড়হুদা থানায় নিয়ে আসা হয়, পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে থানা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল ) আবু রাসেল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ) আবু তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আটক ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই সব কিছু জানা যাবে।
