শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, যদি কখনো এমন অবস্থা দেখা যায় যে স্থানীয় পর্যায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে যাচ্ছে সে ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ করার মতো কোনো কারণ তৈরি হয়নি।
গতকাল রবিবার রাজধানীর ভাসানী স্টেডিয়ামে জাতীয় স্কুল হকি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আমাদের এখানে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সংক্রমণই নেই। বিদেশ থেকে সংক্রমণ বয়ে নিয়ে আসা। সেটি আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি। সমস্ত জায়গায় খুব ভালো ব্যবস্থাও করা হয়েছে। স্থলবন্দরগুলোও বন্ধ আছে। আর বিমানবন্দরগুলোতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যারা আসছেন তাদেরও কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা আশা করছি দেশের বাইরে থেকে সংক্রমণ আসাটাও বন্ধ হবে। তিনি বলেন, অনেকেই কিছুটা আতঙ্কিত হচ্ছেন। তাই সবার কাছে বিনীত অনুরোধ করব আতঙ্কিত হবেন না এবং আতঙ্ক ছড়াবেন না। আসুন আমরা সবাই ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে সতর্ক হই যেন এই করোনা ভাইরাস এখানে না আসে এবং কোনোভাবে ছড়িয়ে না পড়ে। আমরা সর্তকতা অবলম্বন করি তাহলে পুরোটা ঠেকাতে পারব। এ ব্যাপারে আমাদের সবার সচেষ্ট হতে হবে। অর্থাত্ আতঙ্ক নয় সতর্ক হোন।
আর শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তার ফেসবুক পেজে স্কুল বন্ধের বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, করোনা ভাইরাস, এর সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঝুঁকি বিশ্লেষণের একটি অংশ। প্রতিনিয়ত অবস্থা বিশ্লেষণ হচ্ছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপারে আমরা বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়েই এগুচ্ছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বিশেষজ্ঞগণের মতামত নিয়ে মন্ত্রণালয় সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে, তবে সেটি হবে সেই ধরনের পরিস্থিতি এবং বিশেষজ্ঞগণের যথাযথ মতামতের মাধ্যমে। শহরাঞ্চল, গ্রামাঞ্চল, একেক জায়গায় সংক্রমণ ঝুঁকি একেক ধরনের হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে আমাদের উপদেশ দিচ্ছেন, আমরা যৌথ আলোচনা করে সেভাবেই এগুচ্ছি। সরকারের কোনো সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের একক সিদ্ধান্তে রোগ সংক্রমণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা হয় না। সবার প্রতি আহ্বান সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর ওপরে চোখ রাখুন, এবং তা মেনে চলুন।
