গাজীপুরের ট্রাফিক কনস্টেলব শরীফ আহমেদ (৩৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়াটে খুনি মাসুদ খুন করে শরীফকে। গ্রেফতারকৃতরা হলো মোফাজ্জল হোসেন, মাসুদ মিয়া ও বাসচালক মনির হোসেন। গতকাল রবিবার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। শরীফ ত্রিশাল থানার ঝিলকি গ্রামের বাসিন্দা পুলিশ সদস্য আলাউদ্দিন ফকিরের ছেলে।
র্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফি উল্লাহ বুলবুল জানান, শরীফ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। ক্লুলেস হত্যার ঘটনায় র্যাব-১ ছায়া তদন্ত শুরু করে ঘটনার পর থেকেই। শনিবার শ্রীপুরের গড়গড়িয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকা থেকে মূল হোতা মোফাজ্জল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার মোজাহাদী গ্রামে হলেও সে শ্রীপুরের মাস্টারবাড়ীতে থাকত। তার দেওয়া তথ্যে তারাকান্দা থেকে মাসুদ মিয়া ও মনির হোসেন নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। মাসুদের বাড়ি মোজাহাদী গ্রামে এবং মনিরের বাড়ি নেত্রকোনায়। তারা শরীফ হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। শরীফের সঙ্গে মোফাজ্জল ও বাসচালক মনিরের পূর্বপরিচয় ছিল। কিছুদিন আগে শরীফের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর জেরে মোফাজ্জল ও মনির শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী মোফাজ্জল তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার মোজাহাদীর মাসুদ মিয়াকে ১ মার্চ ১০ হাজার টাকায় চুক্তি করে শরীফকে খুন করতে। এর জন্য অগ্রিম ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয় মাসুদকে। ২ মার্চ মাসুদকে গাজীপুরে নিজেদের বাসায় রাখে। তাকে একটি চাকু কিনে দেওয়া হয়। ৩ মার্চ মোফাজ্জল রাতে কৌশলে শরীফকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় এনে তাকে তাকওয়া পরিবহনে ওঠায়। ঐ বাসের চালক গ্রেফতার হওয়া মনির। মনির বাস চালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে শ্রীপুরের মাওনার উদ্দেশে রওনা হয়। পরে জয়দেবপুরের ভবানীপুর বাজার থেকে ইউটার্ন নিয়ে পুনরায় চান্দনা চৌরাস্তার দিকে যেতে থাকে। বাসে অন্য যাত্রী ছিল না। চলন্ত বাসে মাসুদ লোহার হুইল রেঞ্জার দিয়ে শরীফের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। পরে মোফাজ্জল ও মাসুদ তাকে দড়ি দিয়ে বাঁধে। মাসুদ গলা কেটে জবাই করে শরীফকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের ন্যাশনাল পার্কের ৪ নম্বর গেটের সামনে লাশ ফেলে তারা চলে যায়।
উল্লেখ্য, ৪ মার্চ গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ৪ নম্বর গেটের সামনে অজ্ঞাত হিসেবে শরীফের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় না মেলায় ৮ মার্চ বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে গাজীপুরের পূর্ব চান্দনা কবরস্থানে দাফন করা হয়। বৃহস্পতিবার পিবিআই লাশের ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে। পরিচয় পাওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ায় কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
