চলমান বৈশ্বিক মহামারিতে আক্রান্ত হয়েছে বাংলাদেশও। বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা আসেনি। এ পরিস্থিতিতে ভীত হয়ে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের প্রতিষ্ঠানের ১ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী।
ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েট আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না হলেও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬৪টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া বেশ কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধের জন্য নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রশাসনিকভাবে বন্ধ হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ। ইতিমধ্যে বুয়েট ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী গতকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শুরু করেছেন। এদিকে করোনার কারণে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হল ছাড়তে শুরু করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
ভাইরাসটির সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে অবিলম্বে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে অনশনেও বসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা না করা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এদিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধের দাবিতে রবিবার বিকা?লে ডাকসু ভবনে বৈঠক শেষে সর্বসম্মতিক্রমে উপাচা?র্যের কাছে স্মারক?লি?পি দেন ডাকসু নেতারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। বুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বেশির ভাগ বিভাগেই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসেনি। তবে ঠিক কী কারণে ক্লাসে আসেনি, সেটা বলতে পারব না।’
এদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন, ঢাবি শিক্ষক সমিতি করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
