বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২০, ১৯:১৬

ড. রাশিদ আসকারী

বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের কাহিনি তার বিচিত্র জীবনের এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ দিক। মানুষ ও রাজনীতিবিদ শেখ মুজিবকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হলে তার কারাজীবন অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। ...বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ কারাজীবনের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময় বঙ্গবন্ধুর নানাবিধ সত্তা, যেমন মানুষ বঙ্গবন্ধু, রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধু, লেখক বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি

 

গণমানুষের মুক্তির আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে পৃথিবীতে যে কজন হাতে গোনা মানুষ কায়েমি শোষকদের অধীনে দীর্ঘ কারাভোগ করেছেন, তাদের মধ্যে প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর ৫৫ বছরের জীবনে এক-চতুর্থাংশই তিনি কাটিয়েছেন জেলে, প্রায় ১৩ বছর, যা দিনের হিসাব করলে ৪ হাজার ৬৮২ দিন। সেই স্কুলজীবনে স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়গত বিরোধের জের হিসেবে সাত দিনের জেল খাটা থেকে শুরু হয় তার কারাজীবন। তবে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক কারণে কারাভোগ শুরু হয় তার ১১ মার্চ ১৯৪৮ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার ছাত্র-প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে। অক্টোবর ১৯৪৯-এ বেশ কিছুকালের জন্য জেলে যান পূর্ব পাকিস্তান সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এবং সেই কারাভোগ বিনা বিচারে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত চলে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের বিলুপ্তির পর আবারও ছয় মাস জেল খাটেন। অক্টোবর ১৯৫৮-তে আইয়ুব খান পাকিস্তানে মার্শাল ল জারি করলে বঙ্গবন্ধু ১৪ মাসের জন্য কারারুদ্ধ হন। ১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবারও তার জেল হয়। ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বৈধ করতে আয়োজিত নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে বঙ্গবন্ধুকে আবারও কারারুদ্ধ করা হয় ১৪ দিনের জন্য। ১৯৬৫ সালেও একবার জেল খাটেন। ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করলে মিথ্যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় দুই বছরেরও অধিককাল কারাভোগ করেন। ১৯৬৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জনমত সংগঠিত করে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করেন। তারপরও ক্ষমতারোহণের পরিবর্তে তাকে আবারও ষড়যন্ত্র করে জেলে নেওয়া হয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। দীর্ঘ ৯ মাস তিনি পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে সময় কাটান সীমাহীন দুর্ভোগে। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে তার  কারাজীবনের চিরসমাপ্তি ঘটে। বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের এই দীর্ঘ সময় যে কেবল ঢাকা ও পাঞ্জাবে কেটেছে তা নয়। জন্মস্থান গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, এমনকি খুলনার জেলেও তিনি থেকেছেন।

শেখ মুজিবের কারাজীবনের সূচনার সঙ্গে ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয়তাবাদী মুক্তি সংগ্রামের সূচনার এবং তার কারাজীবনের পরিসমাপ্তির সঙ্গে মুক্তিসংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয়ের এক বিস্ময়কর সংযোগ। এটি সত্যিই এক অভাবনীয় অ্যানালজি। জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের সঙ্গে তার স্রষ্টা বঙ্গবন্ধুর জীবনালেখ্যের এই পরস্পর সংলগ্নতা এক ব্যক্তিসত্তার সঙ্গে একটি জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্যতার এক অনুপম দৃষ্টান্ত। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক।

বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের ইতিহাসের সূত্রপাত দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রতি তার রাজনৈতিক মোহমুক্তির ইতিহাসের সমানুপাতিক। ব্রিটিশরাজের শেষ দিকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন তরুণ মুজিব তার রাজনৈতিক গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর  সঙ্গে সক্রিয়ভাবে পাকিস্তান নামক এই নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে তাদের  কাঙ্ক্ষিত পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র সাত মাসের মাথায় তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। এরপর পুরো পাকিস্তান আমলে নানা অজুহাতে বারবার  তাঁকে জেলে যেতে হয়।

পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতি মুজিবের মোহমুক্তির বিষয়টি আরো জোরালো হয় তার প্রিয় নেতা সোহরাওয়ার্দীর অবমূল্যায়ন শুরু  হলে। পূর্ব বাংলায় পাকিস্তান আন্দোলন বেগবান করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই দেখা গেল, সে দেশের কেন্দ্রীয় সরকার তো দূরের কথা, পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকারেও সোহরাওয়ার্দীর কোনো ঠাঁই নেই। বিভিন্ন ষড়যন্ত্র আর মুসলিম লীগের নেতাদের প্রতিক্রিয়াশীল স্বার্থান্ধতার শিকার হয়ে সোহরাওয়ার্দী পূর্ব বাংলার রাজনীতির একেবারে বাইরে নিক্ষিপ্ত হন। কলকাতা থেকে পূর্ববঙ্গে ফিরে আসা শেখ মুজিবের জন্য ছিল এক বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। অধিকন্তু, খোদ রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বাংলার স্থলে উর্দু চাপানোর চেষ্টা করা হলে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নভঙ্গের সূচনা হয়।

বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ বৈচিত্র্যপূর্ণ কারাজীবনে রকমারি অম্লমধুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন লেখক ‘দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী’ অধ্যায়ে। মওলানা ভাসানীর বিস্তৃত আলাপ এবং খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্নকরণ, সদ্য বিবাহিত শামসুল হকের স্ত্রীবিরহ-কাতরতা, দীর্ঘ প্রলম্বিত নামাজ আদায়, মধ্যরাতে একটানা দুই ঘণ্টা উচ্চ স্বরে জিকির, অন্য কয়েদিদের নিদ্রাভঙ্গ, চোর-ডাকাতসহ বিচিত্র স্বভাবের কয়েদিদের সঙ্গে পরিচয়, বঙ্গবন্ধুর গোপালগঞ্জের বাড়ি থেকে সোয়াশ ভরি সোনা চুরি করা গলায় খোকরওয়ালা কয়েদি রহিম চোরের সঙ্গে সাক্ষাত্ এবং তার সরল স্বীকারোক্তি, ফরিদপুর জেলের ঘানিটানা কয়েদি প্রভৃতি বঙ্গবন্ধুকে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা দিয়েছে। আশার আনন্দ ও নিরাশার বেদনার কথা বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের আরেক অভিজ্ঞতা। এক মেয়াদের কারাভোগ শেষ করে মুক্তির আনন্দে যখন প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে  জোগাড়যন্ত্র করছেন, নেতাকর্মীরা বিপুল আগ্রহে ঘিরে রেখেছে তাদের প্রিয় নেতাকে, যখন বাবা-মা পথ চেয়ে আছেন তাদের খোকা আসছে, তখন গোয়েন্দা পুলিশ নতুন পরওয়ানা নিয়ে হাজির হয়েছে। পরওয়ানায় বলা হয়েছে :‘নিরাপত্তা আইনে শেখ মুজিবুর রহমানকে আবার গ্রেফতার করতে হবে।’

তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য) বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে নেওয়া হয়। বাইরের পৃথিবী থেকে এই সময়ে তাকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়, চালানো হয় মানসিক নির্যাতন। এমনকি আইনি পরামর্শ গ্রহণের অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। এ ঘটনার বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি তোফায়েল আহমেদকে আহ্বায়ক করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়, যা ১৪ জানুয়ারি ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। শুরু হয়ে যায় গণ-অভ্যুত্থান। আন্দোলনে ভীত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান আইয়ুব খান। স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের বাধায় শর্তাধীন মুক্তির এই প্রস্তাবকে নাকোচ করে দেন শেখ মুজিব। আন্দোলনে-স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ—‘জেলের তালা ভাঙব, শেখ মুজিবকে আনব।’ বাধ্য হয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ তাকে মুক্তি দেয় সরকার। ২৩ ফেব্রুয়ারি পল্টনে ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়। এই উপাধি একদিকে যেমন শেখ মুজিবের বাঙালি জাতির প্রতি আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক, অন্যদিকে তেমনি তার আপসহীন দীর্ঘ কারাভোগের এক স্বীকৃতি। পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের পরেও মুজিবকে কারাগারে রাখা হয়েছিল। তাকে নিয়ে ভুট্টোর শেষ ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক দাবা খেলা, কূটচাল, স্নায়ুযুদ্ধ

চলেছে, কিন্তু সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানকে গুডবাই  জানান। দফারফা করেন শত্রুর সঙ্গে।

১৯৭১-এ ইয়াহিয়া জান্তা কর্তৃক কারাবন্দি বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের অনেক তথ্যই খানের ভাষ্যে জানা যায়। ইয়াহিয়া শাসনের অধীনে বঙ্গবন্ধুর বিচারের জন্য গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু তাকে স্বীকৃতি দেননি এবং সেখানে যেতে অস্বীকার করেছিলেন। আনার খানের সাক্ষাত্কার ভাষ্যে আরো জানা যায়, ১৯৭১-এর ডিসেম্বরের শুরুতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে জান্তা সরকার মুজিবকে ফয়সালাবাদ থেকে মিয়ানওয়ালিতে স্থানান্তর করে। সাহিওয়াল জেলে বঙ্গবন্ধু নিয়মিত ডায়েরি লিখতেন বলেও খান অবহিত করেন। ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণের পর খাজা তোফাইল নামের এক সিনিয়র কারা কর্মকর্তা মিয়ানওয়ালি কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সেলমুখী করিডরের দরজায় সশব্দে আঘাত করেন। ঢাকার খবরে বঙ্গবন্ধুর ক্ষতির আশঙ্কায় খান দরজা খুলতে অস্বীকার করেন। কিন্তু তোফাইলের পীড়াপীড়িতে অবশেষে দরজা খোলেন। মধ্যরাতে এভাবে ডেকে তোলায় বঙ্গবন্ধুর ধারণা হয় যে তাকে সম্ভবত ফাঁসিকাষ্ঠে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি খান ও তোফাইলকে জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে তারা জানান যে কারাগারে তার জীবন আর নিরাপদ নয় এবং যথাশিগিগর সম্ভব তাকে বাইরে নেওয়া হচ্ছে।

তাদের কাছে তথ্য আছে যে ঢাকায় পাকিস্তনি বাহিনীর আত্মসমর্পণের প্রতিবাদে কারাগারে মুজিবকে আক্রমণ ও হত্যার উসকানি জান্তা সরকার দিচ্ছে। দ্রুতগামী একটি মোটরগাড়িতে করে মুজিবকে শহরের একটি বাড়িতে আনা হয়। পরদিন পাকিস্তানের নয়া প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো রাওয়ালপিন্ডির বাইরে সিহালা রেস্ট হাউজে বঙ্গবন্ধুকে দেখতে আসেন। আনার খান পর্দার আড়ালে লুকিয়ে দুই নেতার কথপোকথন শোনেন। ভুট্টোর আগমনে মুজিব আশ্চার্যান্বিত ও রুষ্ট হন, বিশেষ করে ভুট্টো যখন ধারণা দেন যে ক্ষমতা সংখ্যাগরিষ্ঠের নেতাকে নয়, সংখ্যালগিষ্ঠের নেতাকে দেওয়া হয়েছে। বলা বাহুল্য, ভুট্টো মুজিবকে অবহিত করেননি যে পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হয়েছে। ৫ জানুয়ারি ১৯৭২ যখন বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, রাজা আনার খান, যিনি বঙ্গবন্ধুকে ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করতেন, বঙ্গবন্ধুর কাছে বিদায়ী উপহার চাইলেন। বঙ্গবন্ধুর কাছে দস্তয়ভস্কির ‘Crime and Punishment’-এর একটি কপি ছিল। তাতে খানের জন্য একটি অটোগ্রাফ দিলেন, ‘In the long war between the falsehood and the truth, falsehood wins the first battle and truth the last’। দুই দিন পর বঙ্গবন্ধু স্বদেশে ফেরেন।

বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘতম কারাভোগকারী জাতীয়তাবাদী নেতাদের অন্যতম প্রধান হলেন বঙ্গবন্ধু। তার দীর্ঘ কারাজীবন বঙালি জাতির দীর্ঘ অমানিশার অন্ধকারের সমার্থক। আর তার চূড়ান্ত কারামুক্তি বাঙালি জাতির চূড়ান্ত মুক্তির সমার্থক। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে তিনি যখন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন, কেবল সেই লগ্নেই বিজয়ের অর্থ পূর্ণতা পায়। তার কারাজীবনের প্রতিদিনের প্রতিটি ঘটনার কার্যকারণ নির্ণয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস অনেক বেশি সুরক্ষিত ও সত্যায়িত হতে পারে।

 

লেখক : কলামিস্ট, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক