বাণিজ্যিকভাবে ফের তিমি শিকারে জাপান

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৪

বিবিসি

আগামী বছরের জুলাই থেকে ফের বাণিজ্যিকভাবে তিমি শিকারের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। এ লক্ষ্যে দেশটি আন্তর্জাতিক তিমি কমিশন (আইডব্লিউসি) থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলে বিপন্ন হয়ে পড়া তিমির বাণিজ্যিক শিকার শুরুর এ ঘোষণা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক সমালোচনার কারণ হবে।

বিলুপ্তির পথে থাকা তিমির বেশ কয়েকটি প্রজাতি বাঁচাতে ১৯৮৬ সাল থেকে আইডব্লিউসি বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক তিমি শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১৯৫১ সাল থেকে সংস্থাটির সদস্য জাপান এখন বলছে, তিমি খাওয়া তাদের সংস্কৃতির অংশ। জাপান দীর্ঘদিন ধরে ‘বৈজ্ঞানিক গবেষণা’র নামে বছরে ২০০ থেকে ১২০০ তিমি শিকারের সুযোগ পেয়ে আসছিল। শিকার করা তিমির মাংস তারা বিক্রিও করতে পারত। এ কর্মসূচি নিয়ে সংরক্ষণবাদীদের তীব্র সমালোচনাও ছিল।

বুধবারের এ ঘোষণার ফলে জাপান আগামী বছরের মাঝামাঝি থেকে মিঙ্কি তিমিসহ আইডব্লিসি যেসব প্রজাতির সংরক্ষণে কাজ করছে সেগুলোও অবাধে শিকার করতে পারবে। জাপান সরকারের মুখপাত্র ইয়োশিহিদে সুগা বলেন, আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সমুদ্রসীমা ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে তিমি শিকার সীমাবদ্ধ রাখবো।

এর ফলে অ্যান্টার্কটিকা ও দক্ষিণ গোলার্ধের জলসীমায় তিমি শিকার বন্ধ করবে জাপান। তবে এ বিষয়ে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করার আগেই এ প্রত্যাশাকে সংরক্ষণবাদী গোষ্ঠীগুলো স্বাগত জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে জাপানের সরকার জানিয়েছে, আইডব্লিউসি নিজেদের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ‘টেকসই বাণিজ্যিক তিমি শিকারে সহযোগিতার’ প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তত্পর নয়। তাদের অভিযোগ, সংস্থাটি কেবল তিমির সংখ্যা সংরক্ষণেই মনোযোগী।

উল্লেখ্য, জাপানের উপকূলীয় বিভিন্ন সম্প্রদায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তিমি শিকার করে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটিতে মাংসের আকাল দেখা দিলে তিমির মাংসের চাহিদাও বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবশ্য এ চাহিদা অনেকটাই কমে এসেছে। জাপানের সংবাদমাধ্যম আসাহি বলছে, এখন দেশটিতে যে পরিমাণ মাংস বিক্রি হয় তার মাত্র শূন্য দশমিক এক শতাংশ তিমি থেকে আসে। এদিকে জাপানের ফের বাণিজ্যিক তিমি শিকারের ঘোষণায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিস পেইন ও পরিবেশ মন্ত্রী মেলিসা প্রাইস এক যুক্ত বিবৃতিতে টোকিওর সিদ্ধান্তে ‘গভীর হতাশা’ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া সব ধরনের বাণিজ্যিক ও বৈজ্ঞানিক প্রয়োজনে তিমি শিকারের বিরোধিতা করে যাবে।

অপরদিকে দেশের ভেতরেও এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে জাপানের সরকার। সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে গ্রিনপিস জাপান। তারা বলছে, আগামী বছরের জুনে জাপানে হতে যাওয়া শিল্পোন্নত দেশগুলোর জি-২০ সম্মেলনে টোকিও এ সিদ্ধান্তের কারণে অন্য দেশগুলোর কড়া সমালোচনার ঝুঁকিতে পড়ল।