স্পোর্টস ডেস্ক
ইংল্যান্ড দল খেলতে প্রস্তুত হয়েই ছিল। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা দল তৈরি হয়ে ছিল। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে শ্রীলঙ্কা সফর স্থগিত করে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। করোনা ভাইরাসের প্রকোপে অনেকটা বাধ্য হয়েই শ্রীলঙ্কা যাওয়ার সিদ্ধান্ত পালটায় বোর্ড।
শীর্ষস্থানীয় ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড মনে করেন বোর্ডের জন্য এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া যথেষ্ট শক্ত ছিল। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তারা খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সুরক্ষার ব্যাপারটাকেই আগে স্থান দিয়েছেন। তাই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রিকেটাররা।
১৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট। এই সিরিজ খেলতে বেশ আগেই শ্রীলঙ্কায় এসে গিয়েছিল জো রুটের দল। প্রথম অনুশীলন ম্যাচটা তারা খেলেও ফেলেছিল। প্রস্তুতি নেওয়া ছিল সমর্থকদের। মনে করা হচ্ছিল, ইংল্যান্ড থেকে অন্তত ৩ হাজার সমর্থক এই সিরিজ দেখতে আসবেন। ফলে, বিরাট একটা জনসমাগম থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো পথই খোলা ছিল না। তখনই ইংল্যান্ড দলকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় ইসিবি।
এরই প্রেক্ষিতে ইংলিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইলে এক কলাম লিখেছেন ব্রড। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘কী হতো, যদি আমাদেরই মধ্যে কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতো? তাহলে আমাদের পুরো দলকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হতো। কী হতো, যদি আমাদেরই বাড়ির কাউকে ভাইরাস আক্রান্ত করত? তখন তো, তাদের কাছে ফিরে যাওয়া সম্ভব ছিল না। ৩ হাজার সমর্থকের শ্রীলঙ্কায় আসার কথা ছিল। যদি তাদের কেউ আক্রান্ত হতেন? তাদের থেকে শত শত লোক আক্রান্ত হতেন?’
বোর্ডের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে ব্রড বলেন, ‘আমি জানি এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা খুব কঠিন ছিল ইসিবির জন্য। কিন্তু, এটা জরুরি ও সময়োপযুক্ত একটা সিদ্ধান্ত ছিল। বোর্ড খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সুরক্ষাকে সব কিছুর আগে স্থান দিয়েছে। এটা তাদের জন্য সহজ ছিল না, কারণ এর সঙ্গে অনেক আর্থিক ব্যাপার জড়িত। আমাদের সিরিজের মাঝ পথে না খেলে চলে আসতে মোটেও ভালো লাগেনি। এই হতাশার পরও আমরা মানি যে এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। আশা করি, খুব দ্রুতই আমরা আবারও শ্রীলঙ্কায় গিয়ে সিরিজের বাকি অংশ শেষ করতে পারব।’
ব্রডের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট। তিনি বলে, ‘এটা আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক একটা খবর ছিল। অবশ্যই বোর্ড সঠিক সিদ্ধান্তটাই নিয়েছে। ওখানে খেললে আমরা খেলাতেও ঠিক মতো মন দিতে পারতাম না। এই নিয়ে আমাদের ড্রেসিংরুমেও অনেক কথা হয়েছে। সবার মনমানসিকতাই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। এখন সবাই আমরা বাড়িতে নিজের পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারছি। এর চেয়ে বড়ো কিছু আর হতে পারে না।’
