স্পোর্টস রিপোর্টার
করোনা ভাইরাস আতঙ্ক এবার জেঁকে ধরেছে বাংলাদেশকেই। গতকালই ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব প্রেক্ষাগৃহ। একই দিনে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল সব ধরনের ঘরোয়া খেলা ৩১ মার্চ পর্যন্ত এবং সব ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করার সুপারিশ করেন।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই সুপারিশের পর পরই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা তাদের সব ধরনের খেলা বন্ধ করে দিচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য ফেডারেশনও খেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয়োজনে চলছিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। তারা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পর নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেছিল। এরপর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ১৮ ও ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড স্থগিত রাখবেন।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাসের এই সংক্রমণের প্রেক্ষিতে আমরা সব ধরনের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন স্থগিত রাখতে বলেছি। এর মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সময় শেষে আবার খেলা শুরু হবে। নইলে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আয়োজনে বলছিলেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল, মহিলা ফুটবল এবং আজ শুরু হওয়ার কথা ছিল স্কুল ফুটবলের। কিন্তু বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেছেন, ‘আমরা সব খেলা স্থগিত করে দিয়েছি। প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ হয়ে যাবে। এ ছাড়া আগামীকাল (আজ) বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্কুল ফুটবল শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেটাও হবে না।’
এক দিন আগেই ঢাকায় শুরু হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড়ো ওয়ানডে টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। সরাসরি সরকারের নির্দেশনা না পাওয়ায় পুরো লিগ স্থগিত করেনি বিসিবি। তবে তারা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ১৮ ও ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড স্থগিত রাখা হবে। আর সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে পরের রাউন্ডগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ ব্যাপারে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করব। আপাতত এ রাউন্ড স্থগিত করা হয়েছে। এরপর সরকারের নির্দেশনা জেনে পরের রাউন্ডগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ ু
