লক্ষ রাখুন বাজারের দিকে

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২০, ২০:৪৩

রমজান মাস শুরু হইতে আর বেশি দেরি নাই, মাসাধিককাল পরেই শুরু হইতেছে পবিত্র মাস। এই মাসটিকে কেন্দ্র করিয়া ভোজ্য তৈল, পিঁয়াজ, রসুন, ছোলা, খেজুর, চিনিসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে। আর এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী বিভিন্ন পণ্যের মূল্যও বাড়াইয়া দেন এবং নানা অজুহাতে ভোক্তাদের বিপাকে ফেলেন। ইতোমধ্যে চলতি বত্সরের শুরুতেই দেশের বাজারে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দর ঊর্ধ্বমুখী। পিঁয়াজ লইয়া তো কয়েক মাস ধরিয়াই লঙ্কাকাণ্ড চলিয়াছে। বাড়তি মূল্যে বিক্রয় হইতেছে ভোজ্য তৈল, চিনি ও ডালের মতো পণ্য। আমন ধান উঠিলেও বাজারে চাউলের দাম কমে নাই। সবজি বাজারের আগুন পুরা শীতকাল জুড়িয়া থামে নাই। তবে, ইতোমধ্যে আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখিতে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করিয়াছে সংসদীয় কমিটি। উপরন্তু নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করিতে ও ভেজালরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সুপারিশ করিয়াছে। গত রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এই সকল সুপারিশ করা হয়।

ক্রেতাসাধারণের মধ্যে প্রতি বত্সর রমজানের আগেই শুরু হয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দুশ্চিন্তা। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ হইতেও রোজায় বেশি চাহিদা হয়—এমন পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখিতে শুরু হয় নানা তোড়জোড়, বিশেষ অভিযান, আড়তদার-ব্যবসায়ীদের সহিত আলাপ-আলোচনা। এইবারও তাহার ব্যতিক্রম নহে। দ্রব্যমূল্য ভোক্তাদের কাছে সহনীয় রাখিতে ইতোমধ্যেই নানা পদক্ষেপ নিয়াছে সরকার। নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখিতে সরকারি ১০টি সংস্থাকে মাঠে নামানো হইয়াছে। এই ১০ সংস্থা নিয়মিতভাবে খুচরা বাজার, পাইকারি বাজার ও মোকামে অভিযান চালাইবে। রমজানকে পুঁজি করিয়া কেহ যেন অতিরিক্ত মুনাফার লোভে কারসাজির মাধ্যমে ভোক্তাদের ঠকাইতে না পারে এই সকল সংস্থা তাহা নিশ্চিত করিতে চায়। অভিযানে তাহারা অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবেন বলিয়াও প্রতিশ্রুতি দিতেছেন। উপরন্তু ১৭টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলাসহ অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সকল ব্যাংককে নির্দেশনা পাঠাইয়াছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে এই সকল সংস্থা মাঠে নামিবার পরেও আশ্বস্ত হইতে পারিতেছেন না ভোক্তারা। কেননা প্রতি রমজানেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করিয়া আনায়াসেই ভোক্তাদের ঠকাইয়া আসিতেছে বিভিন্ন চক্র। সরকারি সংস্থাগুলি অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ হারায়, চোখ বন্ধ করিয়া থাকে, কিংবা অসাধু ব্যবসায়ীদের সহযোগী হইয়া উঠে। এইবার ইহার ব্যতিক্রম ঘটিবে, এমন নিশ্চয়তা কে দিবে! সঠিক তদারকি হইলে অবশ্য জনসাধারণ ইহার সুফল পাইতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী জোরদার করা একান্ত আবশ্যক, আর তাহার জন্য বাজারমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখিবার বিকল্প নাই। আমাদের বেশির ভাগ সংস্থার কাজকর্ম দায়সারা গোছের, জনসেবার বদলে অবৈধ উপার্জনে নিজেদের পকেট ভরিতে এবং আপন স্বার্থ লইয়াই তাহারা ব্যস্ত থাকেন; কিন্তু এই বত্সরের করোনা ভাইরাসজনিত বিশেষ বিপদের কথা আমাদের সকলেরই মনে রাখা প্রয়োজন এবং সেই মোতাবেক অঙ্গীকারগুলি বাস্তবায়নে, প্রতিবারের ন্যায় বাগাড়ম্বরের বুদ্বুদ না ছড়াইয়া, কঠোর ও পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত আবশ্যক।