করোনা ভাইরাসের ঝাঁকুনিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে টালমাটাল অবস্থা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সর্বশেষ গতকালও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে বড়ো ধরনের পতন হয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দামও সাত শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৩১ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনার পাশাপাশি ৭০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুয়ায়ী, তা সত্ত্বেও গতকাল সেখানে শেয়ারবাজারে ব্যাপক পতন হয়েছে। একই পরিস্থিতি ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজারেও।
গতকাল লেনদেনের শুরুতেই লন্ডন এফটিএসই সূচক কমেছে ৭ শতাংশের বেশি। ফ্রান্সের সিএসি ফর্টি সূচক ও জার্মানির ড্যাক্স সূচক কমেছে ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ডাও জোনস সাড়ে চার শতাংশ, এসএন্ডপি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, নাসডাক সাড়ে চার শতাংশ কমেছে। গতকাল সবচেয়ে বাজে দিন গেছে অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজারের। সেখানে সূচক কমেছে ১০ শতাংশ।
এদিকে ব্যাংক অব জাপান তাদের মুদ্রানীতি সহজ করে দিয়েছে। ঋণের সুদ ও ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও ছাড় দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ঋণের সুদের হার কমিয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পিপল ব্যাংক অব চায়না আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে ঠিক রাখতে গতকাল ১৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের রিজার্ভ-ব্যবস্থা গণমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া ৭৯ বিলিয়ন ডলারের তহবিল দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও অর্থনীতিকে প্রত্যাশিত রাস্তায় ফেরানো যাচ্ছে না।
এদিকে বিশ্বব্যাপী বড়ো ধাক্কা খেয়েছে বিমান পরিবহনসহ সব ধরনের পরিবহন ব্যবসা। এর প্রভাব দেখা গেছে বিমান সংস্থাগুলোর শেয়ারেও। গতকাল এয়ার ফ্রান্সের শেয়ারদর কমেছে ১২ শতাং, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের কমেছে ১৬ শতাংশ।
করোনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন ইউরোপ। ফলে সেখানে বড়ো শহরগুলোর বিপণিবিতানে সুমসাম নীরবতা। ভোগব্যয় ব্যাপকহারে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানিতেও। বাংলাদেশের রপ্তানির প্রধান বাজার ইউরোপ ও আমেরিকা। সেখানকার অনেক ক্রেতাই বাংলাদেশে তাদের ক্রয়াদেশের পণ্য আপাতত না পাঠানোর অনুরোধ জানাচ্ছে। ফলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রপ্তানিকারকদের মধ্যেও।
