স্পোর্টস রিপোর্টার
বয়স ছয় কি সাত। এতটুকু শরীরেই ১২টি অস্ত্রোপচার হয়ে গেছে। এর মধ্যে ছয়টি বড় ধরনের অস্ত্রোপচার। ডাক্তারির ভাষায় যাকে বলে ওপেন হার্ট সার্জারি। না করে উপায়ও ছিল না। জন্মের তিন মাস পরেই যে হূিপণ্ডে একটা ফুটে ধরা পড়ে তার। কে জানতো, এই আর্চি শিলারই একদিন অস্ট্রেলিয়ার হলে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস করতে নামবে।
না, কোনো গালগল্প নয়। নিয়মিত অধিনায়ক টিম পেইনের সঙ্গে গতকাল বক্সিং ডে টেস্টে টস করতে নেমেছিলেন সাত বছর বয়সী ক্ষুদে আর্চি শিলার। মাথায় ছিল বিখ্যাত ব্যাগি গ্রিন। ঠিক যেন রূপকথার গল্পের মতো করেই স্বপ্নপূরণ হলো আর্চি শিলারের।
এর মধ্যে দিয়ে রচিত হলো নতুন ইতিহাস। এর আগে কখনোই ক্রিকেট এমন ‘কো-ক্যাপ্টেন’-কে টস করতে মাঠে দেখেনি। টস সেশনেও আর্চি পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। ভারত টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলে আর্চির কাছে ‘সতীর্থ’ এবং অধিনায়ক পেইনের জন্য কোনো মতামত আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। তখন আর্চি জানায়, ‘ছক্কা মারো এবং উইকেট তুলে নেও।’
ভারতের টস জিতে ব্যাট করতে নামার সিদ্ধান্ত যে ভুল হয়নি, সেটি জানিয়েছে আর্চি নিজেও। পেইন বলেন, ‘আর্চি টস জিতলে প্রথমে ব্যাট করার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল। তবে আমি তাকে বলেছিলাম, আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই!’
আর্চির এই স্বপ্নপূরণ সম্ভব হয়েছে ‘মেক আ উইশ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সুবাদে। অস্ট্রেলিয়ান সংগঠন অসুস্থ শিশুদের নিয়ে কাজ করে। এই ফাউন্ডেশনটি বাচ্চাদের নানা ধরনের স্বপ্নপূরণ করে থাকে। তারই অংশ হিসেবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) আর্চিকে অস্ট্রেলিয়া দলে সুযোগ করে দেয়। অ্যাডিলেডে প্রথম টেস্ট থেকেই দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দিয়েছে আর্চি।
সেই সুযোগটা হয়েছে স্বয়ং কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের সুবাদে। তার ফোন কলেই এখন অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে আছেন শিলার। ক্রিকেট খেলে আর্চি শিলার। লেগ স্পিন বোলিং করে। শুধু তাই নয়, বোলিংয়ের সুযোগ পেলে বিরাট কোহলির উইকেট পর্যন্ত নিতে চায় ৭ বছরের এই ক্ষুদে।
গেল অক্টোবরেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের সময়ই অদূর ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে আর্চিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এবার হয়ে গেল তার চূড়ান্ত স্বপ্নপূরণ!
