নবম-দশম শ্রেণির পড়াশোনা

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২০, ১৯:১৯

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে বাংলা প্রথমপত্রের সৃজনশীল লেখা। চোখ রাখো ইত্তেফাকের অনুশীলন পাতায়

 

 

বই পড়া

১. “জ্ঞানতৃষ্ণা তার প্রবল, কিন্তু বই কেনার বেলা সে অবলা। আবার কোনো কোনো বেশরম বলে, বাঙালির পয়সার অভাব।” বটে? কোথায় দাঁড়িয়ে বলছে লোকটা এ কথা? ফুটবল মাঠের সামনে দাঁড়িয়ে, না, সিনেমার টিকিট কাটার ‘কিউ’ থেকে? থাক্ থাক। আমাকে খামাখা চটাবেন না।”                                                           

ঘ.‘আমাদের হীনম্মন্যতাই আমাদের বই না কেনার মূল কারণ’( উক্তিটি উদ্দীপক এবং ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ কর।           ৪

ঘ. ‘আমাদের হীনম্মন্যতাই আমাদের বই না কেনার মূল কারণ’( উক্তিটি উদ্দীপক এবং ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে বর্ণিত বাঙালির বই না কেনার প্রবণতার দিক বিবেচনায় যথার্থ বলে প্রতিপন্ন হয়।  ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের আলোকে জানা যায়, আমরা শিক্ষার নগদ ফল প্রাপ্তিতে বিশ্বাসী এবং সাহিত্যচর্চার সুফল সম্পর্কে উদাসীন। এ কারণেই নগদ লাভের বস্তুগুলো আমরা স্বচ্ছন্দ চিত্তে কিনলেও বই কিনতে নারাজ। কেননা এতে নগদ লাভের কোনো সম্ভাবনা নেই। উদ্দীপকে দেখা যায়, বাঙালি বিভিন্নভাবে টাকা ব্যয় করলেও বই কিনে টাকা ব্যয় করতে চায় না। তখন মনে করে পয়সার বড় অভাব তার। এ থেকে এক ধরনের হীন মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। আবার ‘বই পড়া’ প্রবন্ধেও দেখা যায়, পেশাদাররা ব্যবসার খাতিরে হাজারখানা ল-রিপোর্ট কিনলেও একটি কাব্যগ্রন্থও কেনে না। কারণ কাব্যগ্রন্থ ব্যবসার প্রসারে ভূমিকা রাখতে পারবে না। তাই শিক্ষিত সমাজ বই কিনতে আগ্রহী নয়। কারণ এতে করে অর্থের সংস্থান সম্ভব নয়। মূলত এ ধরনের মানসিকতা আমাদের হীনম্মন্যতাকে তুলে ধরে। ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে বাঙালির যে বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরা হয়েছে তা উদ্দীপকেও লক্ষণীয়। বাঙালি আর্থিক দিকটি বিচার করে বলে সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মনের খোরাক যোগাতে অনাগ্রহী। প্রবন্ধের আলোকে এ বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা লাভ করা যায়। আবার, উদ্দীপকে দেখা যায়, বিনোদনের জন্য অর্থ ব্যয় করতে চাইলেও বাঙালি বই কিনে সাহিত্যচর্চা করার ব্যাপারে উদাসীন। এ বিষয়গুলো থেকে বাঙালি তথা আমাদের হীনম্মন্যতাই স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। সুতরাং ‘বই পড়া’ প্রবন্ধ এবং উদ্দীপকের আলোচনায় বাঙালির যে মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে তা থেকে বোঝা যায়, বাঙালি সাহিত্যচর্চার ব্যাপারে উদাসীন। বই ক্রয় করা তাদের জন্য বাজে খরচেরই নামান্তর। আর এ ধরনের আচরণ বাঙালির হীনম্মন্যতাকেই প্রকাশ করে। তাই ‘বই পড়া’ প্রবন্ধ এবং উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।