শুদ্ধিকরণ (পর্ব ৮)
২.৫ ণত্ব ও ষত্ব বিধানজনিত অশুদ্ধি
ণত্ব বিধান ও ষত্ব বিধান হলো বাংলা ব্যাকরণের একটি বিশেষ নিয়ম। বাংলা ভাষার তত্সম শব্দে দন্ত্য-ন এর মূর্ধন্য-ণ তে পরিবর্তনের নিয়মসমূহকে ণত্ব বিধান এবং দন্ত্য-স এর মূর্ধন্য-ষ তে পরিবর্তনের নিয়মসমূহকে ষত্ব বিধান বলা হয়। তত্সম শব্দের এ নিয়ম অতত্সম শব্দে প্রয়োগের ফলে ভাষা ব্যবহারকারীরা অনেক সময় বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। কাজেই ণত্ব বিধান ও ষত্ব বিধান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা জরুরি। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
২.৫.১ ণত্ব বিধান
নিয়ম ১ : ঋ, র, ষ বর্ণ কিংবা এদের সংক্ষিপ্ত রূপের পরে দন্ত্য-ন থাকলে মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমন : ঋণ, বর্ণ, বরণ, ঘৃণা, তৃণ, কর্ণ ইত্যাদি।
নিয়ম ২ : যদি ঋ, র, ষ বর্ণ কিংবা এদের সংক্ষিপ্ত রূপের পরে স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ব, হ, য় অথবা অনুস্বার (ং) থাকে, তার পরবর্তী দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয়ে যায়।
যেমন : কৃপণ, নির্বাণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
নিয়ম ৩ : ট-বর্গের পূর্বে দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমন : বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড, ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
নিয়ম ৪ : উপসর্গ, সন্ধি বা সমাসযোগে গঠিত শব্দে উল্লিখিত ‘নিয়ম ১’, ‘নিয়ম ২’ ও ‘নিয়ম ৩’ প্রযোজ্য নয়।
যেমন : দুর্নাম, দুর্নীতি, ত্রিনয়ন, অগ্রনেতা, দুর্নিবার, অহর্নিশ, বহির্গমন, সর্বনাম ইত্যাদি।
নিয়ম ৫ : প্র, পরা, পরি, নির উপসর্গের পরে দন্ত্য-ন উল্লিখিত ‘নিয়ম ১’, ‘নিয়ম ২’ ও ‘নিয়ম ৩’ অনুসারে মূর্ধন্য-ণ হয়ে যায়।
যেমন : প্রণাম, পরিণাম, নির্ণয়, প্রণাশ, পরিণত, পরিণতি, প্রণিধান ইত্যাদি।
নিয়ম ৬ : ত-বর্গীয় বর্ণের আগে কখনও মূর্ধন্য-ণ হয় না।
যেমন : প্রান্ত, গ্রন্থ, বৃন্দ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
পরের অংশ আগামীকাল
