চাকরির জন্য চাই আকর্ষণীয় জীবনবৃত্তান্ত

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২০, ২১:৩১

চাকরিজীবনে প্রবেশের প্রথম ধাপ হলো চাকরির জন্য আবেদন করা। আর এমই আবেদন করার জন্যই প্রয়োজন হয় জীবনবৃত্তান্তের। কোনো চাকরিপ্রার্থী প্রাথমিকভাবে মূলত তার জীবনবৃত্তান্ত দ্বারাই হাজির হন চাকরিদাতার সামনে। সেই হিসেবে একটি জীবনবৃত্তান্তকে চাকরিদাতার কাছে চাকরিপ্রার্থীর ‘ফার্স্ট লুক’ বললেও ভুল হবে না। কিন্তু অনেকেই সুন্দরভাবে একটি জীবনবৃত্তান্তকে তৈরির দিকে মনোযোগী হন না, যা তাদের ক্যারিয়ারের পথে একটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে হাজির হতে পারে। এই প্রতিবন্ধকতা এড়াতে কীভাবে একটি সুন্দর জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করা যায়, তা তুলে ধরা হয়েছে এই লেখায়।

আংশিক পরিচয়

জীবনবৃত্তান্তের শুরুতেই থাকবে আপনার পুরো নাম। এটি একটু বড় ফন্টে বোল্ড করে লিখতে হবে। সার্টিফিকেটের নামটি ব্যবহার করুন, ডাক নাম পরিহার করুন। নামের পর থাকবে আপনার বর্তমান ঠিকানা। যে ঠিকানায় আপনি চিঠি পাবেন, সেটিই রাখুন এই অংশে। এর পরে ফোন নম্বর আর ইমেইল ঠিকানা দিন। জীবনবৃত্তান্তের একদন ওপরে বাম পাশে বা মাঝখানে রাখুন এই অংশটি। আর ডানে যুক্ত করুন একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

ক্যারিয়ার উদ্দেশ্য

সদ্য পাস করা বা স্বল্প অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের জন্য এই অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কী ধরনের ক্যারিয়ার গড়তে চান এবং নিজের দক্ষতা, মেধা ও অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগাতে চান, তার একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরতে হবে এই অংশে। ভিন্ন ভিন্ন পদের চাকরির জন্য ক্যারিয়ার উদ্দেশ্য ভিন্ন হলে ভালো হয়। আপনার নিজের লক্ষ্যের সাথে সাথে আপনি প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে লাভবান করতে পারবেন, সেটিরও ইঙ্গিত রাখুন ক্যারিয়ার উদ্দেশ্যে।

নিজের পরিচয় তুলে ধরুন

এখানে পরিচয় বলতে আপনার মা-বাবার নাম বুঝানো হয়নি। এই অংশে তুলে ধরতে হবে আপনার নিজের দক্ষতা, যোগ্যতা ও গুণাবলীর কথা। আপনি যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন সেই চাকরির সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ করার জন্য আপনার মধ্যে কোন গুণ, দক্ষতা বা যোগ্যতা রয়েছে, তা তুলে ধরুন এই অংশে। এমনভাবে এই তথ্য উপস্থাপন করুন যাতে চাকরিদাতা মুগ্ধ হয় আপনার যোগ্যতা বা দক্ষতায়। সেইসাথে আপনার একটি সারসংক্ষেপও তুলে ধরুন এই অংশে। আপনি কবে, কোথায়, কী ধরনের কাজ করেছেন তার একটি নাতিদীর্ঘ বর্ণনা তুলে ধরুন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা

অভিজ্ঞ এবং অনভিজ্ঞদের জন্য এই অংশটি একটু ভিন্ন হবে। যাদের চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা চাকরির অভিজ্ঞতাকেই আগে উল্লেখ করবেন। সেক্ষেত্রে কোন কোন প্রতিষ্ঠানে কতদিনের জন্য কাজ করেছেন, তা আগে উল্লেখ করতে হবে। সেইসাথে কোন পদে কাজ করেছেন এবং আপনার ওপর কী কী দায়িত্ব অর্পিত ছিল, তা যতটাসম্ভব বিস্তারিত তুলে ধরুন। চাকরিজীবনে কোনো ধরনের বিশেষ অর্জন, পুরস্কার বা প্রাপ্তি থাকলে তা উল্লেখ করতে ভুলবেন না। অভিজ্ঞরা এর পরে যুক্ত করবেন শিক্ষাগত যোগ্যতা আর প্রশিক্ষণের তথ্য। আর অনভিজ্ঞরা শুরুতেই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণের তথ্য তুলে ধরবেন।

আপনার বিশেষত্ব উল্লেখ করুন

অনেকেই জীবনবৃত্তান্তে খোলাখুলি কিছু উল্লেখ না করে বিভিন্ন কাজের আবছা বিবরণ দিয়ে থাকেন। এটি সঠিক পদ্ধতি নয়। বরং খুব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন আপনি কী করেছেন, আপনি কী করতে চান এবং আপনি কী করতে পারেন বলে বিশ্বাস করেন। প্রতিটি মানুষের নিজের একটি দক্ষতার জায়গা থাকে। আপনার সেই দক্ষতার জায়গাটিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরুন আপনার জীবনবৃত্তান্তে।