শিরোপা জয় প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম আবাহনী কোচ
স্পোর্টস রিপোর্টার
সম্প্রতি দুটি জয়ের পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে এখন আলোচিত দল চট্টগ্রাম আবাহনী। তবে দলটির কোচ মারুফুল হক জানিয়েছে, শিরোপার পথে থাকতে হলে তাদের আরো ধারাবাহিক হতে হবে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের আরেকটা মধ্যম সারির দল হিসেবে পরিচিতি পাওয়া চট্টগ্রাম আবাহনী চলতি মৌসুমে আমূল বদলে গেছে। তার প্রমাণ আবাহনী লিমিটেড ও বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে কঠিন দুটো অ্যাওয়ে ম্যাচে তুলে নেয়া টানা জয়। ফলশ্রুতিতে ১৩ দলের এই লিগে ছয়টি করে খেলা শেষে শীর্ষ দুই দলের একটি ‘ব্লু পাইরেটস’রা।
চটগ্রাম আবাহনীর এবারের শুরুটা ফেডারেশন কাপের গ্রুপপর্বে বসুন্ধরাকে হারিয়ে। এরপর সদর্পে কোচ মারুফুল বলেছিলেন, ‘লিগেও শিরোপার জন্যই লড়বে দল’। লিগের ছয় ম্যাচ শেষে সেটা আপাতত করেও দেখাচ্ছে তার শিষ্যরা।
তবে বসুন্ধরার বিপক্ষে সেটা পড়ে গিয়েছিল হুমকির মুখেই। নীলফামারিতে ৫৯ মিনিট শেষেই যে তিন গোলে পিছিয়ে পড়েছিল তার দল! এরপরের গল্পটা দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের। চার্লস দিদিয়েরের গোলে শুরু। এরপর নিক্সন ব্রিজোলেরার জোড়া গোল আর শেষ সময়ে চিনেদু ম্যাথিউর লক্ষ্যভেদে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখায় মারুফুলের শিষ্যরা।
দেশের প্রথম উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী এই কোচ জানালেন, নিজেদের আক্রমণাত্মক দর্শনে বিশ্বাসই জিতিয়েছে দলকে। মারুফুলের ভাষ্য, ‘নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা ধরে রাখলেই গোল পাবো, এ বার্তা বিরতির সময়েই দেয়া ছিল। বিরতির আগ পর্যন্ত ওদের চেয়ে আক্রমণে আমরাই এগিয়ে ছিলাম। ধারাবাহিকতার কারণে প্রতি-আক্রমণে তারা গোল পেয়ে গিয়েছিল। তাই বিশ্বাসটা ছিল যতোই ম্যাচ গড়াবে ততই সুযোগ আমাদের বাড়বে। সেটা তাদের ক্লান্তির কারণেই হোক, মানসিক কারণ কিংবা ট্যাকটিকাল-টেকনিকাল কারণেও হতে পারে।’
তবে এখানেই তৃপ্ত নন চট্টগ্রাম আবাহনী কোচ। নজর রাখছেন দূরযাত্রার পথে। বললেন, ‘বসুন্ধরা এখনো বাংলাদেশের অন্যতম সেরা দল। তাদেরকে হারানো মানেই যে শিরোপা জিতে গেছি ব্যাপারটা তেমন না। লিগ মোটে এক চতুর্থাংশ শেষ হয়েছে, আরও তিন ভাগ বাকি। বসুন্ধরাও যে হেরে যাওয়ার পরে চ্যামিপয়নশিপ থেকে ছিটকে গেছে ব্যাপারটা তেমনও না। তবে শিরোপার পথে থাকতে হলে আমাদের আরো ধারাবাহিক হতে হবে।’
ফরোয়ার্ড চিনেদু ম্যাথিউ আর নিক্সন ব্রিজোলেরার পাশাপাশি চট্টগ্রাম আবাহনীর মূল শক্তি মিডফিল্ডার চার্লস দিদিয়েরও। এই ত্রয়ীর কাছ থেকে গোলের সিংহ ভাগ পেয়েছে তারা। নিক্সনের চার গোলের পাশাপাশি ম্যাথিউ আর দিদিয়েরের কাছ থেকে এসেছে তিনটি করে গোল। এছাড়াও স্থানীয় তিনজন গোলদাতা লক্ষ্যভেদ করেছেন লিগের ছয়টি ম্যাচে।
সব মিলিয়ে দলীয় প্রচেষ্টাই বদলে দিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীকে, দাবি কোচের। তিনি বলেন, ‘দলের ১১ জনের মধ্যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার জন্যে দুই তিনজন খেলোয়াড় থাকেই। তাদের সাহায্য করার জন্যে বাকিদের মানসম্পন্ন হতে হয়। অনুশীলন-প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। সবকিছুর সম্মিলিত ফলই বলা চলে একে।’
তবে শিরোপার পথে যাত্রাটা যে মোটেও সহজ হবে না সেটা আগ থেকেই আঁচ করতে পারছেন চট্টগ্রাম আবাহনী কোচ। এখন পর্যন্ত শীর্ষ ছয় দলের মধ্যে পার্থক্যটা কেবল তিন পয়েন্টের। তীব্র চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে নিচু সারির দলগুলোও। তাই কিছুটা সতর্কই থাকছেন মারুফুল, ‘লিগের শীর্ষ ছয় দলের ভেতরে পার্থক্য কেবল তিন পয়েন্টের। ব্যাপারটা লিগের আগেই কিছুটা অনুমান করা গিয়েছিল। শুরুর দিকের চ্যালেঞ্জটা যারা সামলাতে পারবে তারাই এগিয়ে যাবে। সেটা কিন্তু কেউই তেমন সামলাতে পারেনি। অনভিজ্ঞতার কারণে কিছু ম্যাচে হারা বাদে সেরা ছয়ের বাইরের দলগুলো দারুণ খেলছে। ফলে কাজটা কঠিনই হবে এবার।’
