অর্থনীতি চাঙ্গা রাখার উদ্যোগের পরও আতঙ্ক

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২০, ০০:৪১

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সুদহার কমানো এবং প্রণোদনা ঘোষণার পরেও বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে সংকট কাটছে না। করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় আমেরিকা ও ইউরোপ জুড়ে রেস্তোরাঁ, দোকানপাট, বিমান চলাচল ও কারখানা বন্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশ্বমন্দা আর আশঙ্কা নয়, বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।

ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডের গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক প্রধান ডেভিড উইলকক্স সিএনএন বিজনেসকে বলেন, ১০ দিন আগেও বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে মোড় নিচ্ছে কি না, তা নিয়ে বাস্তব অনিশ্চয়তা ছিল, কিন্তু এখন এটি নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন নেই। অর্থাত্ মন্দা এখন বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে আরেকটি দিন পার করল বিশ্ব পুঁজিবাজার। গতকাল লেনদেনের শুরুতে এশিয়ার পুঁজিবাজারে সূচকের ব্যাপক ধস শুরু হয়।

লেনদেনের শুরুতে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক কমেছে আড়াই পয়েন্ট। দিন শেষে শূন্যের কিছুটা ওপরে ওঠে। চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পতন দিয়ে শুরু হলেও শূন্যের কাছাকাছি অবস্থানে লেনদেন শেষ হয়। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ডো জোনস সূচক এক দিনেই কমেছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। নাসডাক কমেছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে গতকাল এক থেকে দেড় শতাংশ সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। দুই সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে রবিবার ফের সুদহার কমানোর ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। জরুরি ভিত্তিতে এবার সুদহার কমিয়ে শূন্য থেকে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনল। পাশাপাশি ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ হাজার কোটি ডলারের প্রণোদনা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব গণমাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ী দেশের অর্থনীতি মন্দার দিকে যাচ্ছে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পরই সোমবার সূচক পতনে রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। তবে অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে সুদহার কমানো এবং প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার পর মঙ্গলবার বাজার কিছুটা ঘুড়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, আগের বিশ্বমন্দার চেয়ে এবারের পদক্ষেপ অনেক দ্রুত নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক এই উদ্যোগকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এজন্য বিশ্ব শেয়ারবাজারে এমন উত্থান-পতন দেখা যাচ্ছে।

এদিকে অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে ইউরোপের দেশগুলোও নানা উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছে। সুদহার কমানো, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক প্রণোদনা, ব্যাংক গ্যারান্টির জন্য তহবিল ঘোষণার পরেও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা কাটছে না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ী, ইইউ কর্মকর্তারা কমপক্ষে ৩০ দিনের জন্য সমস্ত অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত নিষিদ্ধ করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বলেছেন, ‘আমরা যুদ্ধে রয়েছি।’ দেশের মানুষদের যতটা সম্ভব বাড়িতে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। কমপক্ষে ১৫ দিন ফ্রান্সে চলাচল নিষিদ্ধ করেছেন তিনি। বড়ো অর্থনীতির দেশগুলো অর্থনৈতিক অবস্থা সামাল দিতে নানা উদ্যোগ নিলেও আতঙ্কগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের খুব একটা শান্ত করতে পারেনি। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ লাখে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর মহামারি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা, কারফিউ জারি ও জনসমাগম বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনেক দেশ। ফলে দ্রুত পালটে যাচ্ছে বিশ্ব প্রেক্ষাপট। সেইসঙ্গে অর্থনীতির আগের হিসাবও বদলাতে হচ্ছে সবাইকে।