শেষ সময়ে ভোটারদের মন জয় করতে মরিয়া প্রার্থীরা

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৯

গ্রামের ভোটই এখন মূল ফ্যাক্টর

শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস

শেষ সময়ে ভোটারদের মন জয় করতে দক্ষিণাঞ্চলের প্রার্থীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। এবারের নির্বাচনে নগরীর চেয়ে গ্রামের ভোটাররাই মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নগরীতে ভোটার বেশি হলেও অধিকাংশ ভোটাররা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বাইরে বস্তির ভোটারদের উপর রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব। রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত সিংহভাগ ভোটার বাস করেন গ্রাম অঞ্চলে।

সদর আসনের ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৮ জন ভোটারকে কাছে টানতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মরিয়া হয়ে উঠেছে। বরিশাল-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ রয়েছেন শক্ত অবস্থানে। গ্রামের ভোটের উপর এবার প্রভাব বিস্তার করেছে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী। হাত পাখা প্রতীকের পক্ষে দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতী ফয়জুল করীম গ্রামে জনমত গঠনে সক্ষম হওয়ায় অসুবিধায় পড়েছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার। সুবিধাজনক অবস্থা তৈরি হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের জন্য। সদর আসনের মতই ত্রিমুখী লড়াই হবে বরিশাল-২ আসনে। সেখানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জাসদ (আম্বিয়া) দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী আনিছুজ্জামান। দলের স্থায়ী কমিটির সভায় তাকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ায় তিনি নেতা-কর্মীদের নিয়ে ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের নতুন মুখের প্রার্থী শাহে আলমকে মোকাবিলা করতে হবে বিএনপির পুরনো মুখের প্রার্থী শিল্পপতি সরফুদ্দিন সান্টু।

বরিশাল-৩ আসনে লড়াই হবে চার প্রার্থীর মধ্যে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ মোঃ টিপু সুলতানের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন একই দলের যুব মৈত্রীর সহ-সভাপতি (বর্তমানে বহিষ্কৃত) আতিকুর রহমান। ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী আতিকের আসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলাতেই কর্মী-সমর্থক রয়েছে ব্যাপক। পাশাপাশি আতিকের ভাই বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান-মেম্বররা মাঠে নামায় মহাজোট প্রার্থী বেকায়দায় রয়েছেন। সেখানে ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকা সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এ আসনের বিগত দিনের বিরোধ ভুলে বিএনপির অপর ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান জয়নুল আবেদীনকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। এ আসনের চার প্রার্থীই প্রত্যেকেই মাঠে সমান অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

বরিশাল-৬ আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টি (এ) প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রত্না আমিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে। তার বিপক্ষে রয়েছেন মহাজোটের শরীক জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ মোহসিন। তিনি দলের প্রতীক মশাল নিয়ে এবার নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। রত্না আমিন এ আসনের এমপি থাকলেও এলাকায় কম যাতায়াত ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে না পারায় স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ বিরাজমান। এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী পুরনো মুখের সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ায় ত্রি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

বরিশাল-৪ আসনে নির্বাচনী মাঠে দাঁড়াতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় পা ভেঙে হাসপাতালে ঐক্যফ্রন্টের শরীক নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী নূরুর রহমান জাহাঙ্গীর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। প্রার্থী হাসপাতালে ভর্তি থাকায় মাঠে নেই নেতা-কর্মীরা। ফলে সেখানকার আওয়ামী লীগ প্রার্থী পঙ্কজ নাথ রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে।