এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি ২০২০

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২০, ১৯:১৯

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

মো.কামরুল হাসান, সহকারী শিক্ষক

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল

জাহানাবাদ সেনানিবাস, খুলনা

 

প্রোগ্রামিং ভাষা

 

 প্রোগ্রামের ভাষা (Programing Language) :

 

শিক্ষার্থী বন্ধুরা,গত ৫ মার্চ প্রকাশিত ১ম পর্বে জেনেছি যে, প্রোগ্রাম হলো একগুচ্ছ নির্দেশনা। গত পর্বে শিক্ষক জনাব সাগর নাস্তা আনার জন্য কর্মচারীকে নির্দেশনা দিয়েছিল। যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সেটি নিশ্চয় কোনো না কোনো ভাষার মাধ্যমে দিয়েছিলেন। ধরে নিচ্ছি, যেহেতু শিক্ষক ও কর্মচারী দুজনের ভাষা বাংলা, তাই শিক্ষক জনাব সাগর বাংলা ভাষায় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ফলে,তাদের কাজটিও সহজে ও দ্রুতগতিতে সম্পাদিত হয়েছিল। যদি দুজনের ভাষা দুরকম হতো তাহলে উপায় কী হতো? সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হতো এমন একজন ব্যক্তির যে কীনা দুজনের ভাষাই বোঝে অর্থাত্ দোভাষী (Interpreter) কিংবা অনুবাদক (Translator)। ১৯৪৫ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত কয়েক শত ভাষা আবিষ্কৃত হয়েছে। এর কোনোটি কম্পিউটার সরাসরি বুঝতে পারে। আবার কোনোটি সরাসরি বুঝতে পারে না। সেক্ষেত্রে অনুবাদকের (Translator) প্রয়োজন হয়। এসব শতশত প্রোগ্রামিং ভাষার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ৫টি স্তরে বা প্রজন্মে (Generation) ভাগ করা হয়েছে। যথা :প্রথম প্রজন্ম (১৯৪৫) : মেশিন ভাষা (Machine Language)

দ্বিতীয় প্রজন্ম (১৯৫০) : অ্যাসেম্বলি ভাষা (Assembly Language)

তৃতীয় প্রজন্ম (১৯৬০) :উচ্চতর ভাষা (High Level Language)

চতুর্থ প্রজন্ম (১৯৭০) :অতি উচ্চতর ভাষা (Very High Language)

পঞ্চম প্রজন্ম (১৯৮০) : স্বাভাবিক বা ন্যাচারাল ভাষা (Natural Language)

উল্লিখিত ৫টি প্রজন্মের ভাষাকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। নিম্নস্তরের ভাষা (Low Level Language) ও উচ্চ স্তরের ভাষা (High Level Language)। মেশিন ভাষা ও অ্যাসেম্বলি ভাষাকে নিম্নস্তরের ভাষা বলার কারণ হলো এগুলো কম্পিউটারের ভাষা (0 বা1) কিংবা এর কাছাকাছি। বাকি ৩টা স্তরের ভাষা উচ্চ স্তরের ভাষা বলার কারণ হলো এগুলো মানুষের ভাষা অর্থাত্ ইংরেজি ভাষার মতো। 

শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই প্রত্যেকটা ভাষার বৈশিষ্ট্য, সুবিধা ও অসুবিধা তোমাদের পুস্তকে দেওয়া আছে। আমরা এখানে আলোচনা করার চেষ্টা করব, যে বিষয়গুলো সি প্রোগ্রামিং ভাষার লেখার কলা কৌশল নিয়ে।

সি প্রোগ্রামিং হলো তৃতীয় প্রজন্মের ভাষা। একে মিড লেভেল ভাষাও বলা হয়ে থাকে। সি প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে সমস্যা সমাধান করতে হলে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য অল্প পরিসরে হলেও কয়েকটি বিষয় ধারণা থাকা প্রয়োজন :

১। অনুবাদক প্রোগ্রাম (Compiler)

২। অ্যালগরিদম (Algorithm)

৩। ফ্লোচার্ট (Flowchart)

৪। সি প্রোগ্রামের গঠন, হেডার ফাইল (Header File), লাইব্রেরি ফাংশন (Library Function), ডেটা টাইপ (Data Type), ধ্রুবক (Constant), চলক (Variable), অপারেটর (Operator), কিওয়ার্ড (Keyword), ইনপুট-আউটপুট স্টেটমেন্ট (Input-Output Statement), কন্ট্রোল স্টেটমেন্ট (Control Statement), অ্যারেও (Array), ফাংশন (Function) ইত্যাদি।

বন্ধুরা, আজ এই পর্যন্তই। উল্লিখিত বিষয়বস্তু গুলোর ওপর পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে। আগামীপর্বে ‘অনুবাদক প্রোগ্রাম’ নিয়ে আলোচনা করা হবে। সকলে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করবে।

(চলবে...)