‘উন্নতি ছাড়া উপায় নাই’

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২০, ২০:৫৫

স্পোর্টস রিপোর্টার

গত বছর রাসেল ডমিঙ্গো হেড কোচ হয়ে আসার পরই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টে বিশ্রাম দিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমানকে। প্রোটিয়া এই কোচ স্পষ্ট করে বলেছিলেন, মুস্তাফিজ হোয়াইট বল ক্রিকেটার।

ধীরে ধীরে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। এবার বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে লাল বলেও রাখা হয়নি তাকে। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতেও একাদশে ‘অপরিহার্য’ ট্যাগটা অনেকখানি সরে গেছে তার নামের পাশ থেকে। ২০১৫ সালে ক্রিকেট বিশ্ব কাঁপিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মুস্তাফিজের। কাটারের মায়াবী বিভ্রমে ব্যাটসম্যানদের ভুলিয়েছেন। দিন যত গড়িয়েছে, ব্যাটসম্যানরা ততই তাকে পড়েছেন, কাটারের ধারও কমেছে।

বাস্তবতা টের পাচ্ছেন এই তরুণ। আগের মতো ‘ফিজ-ফিজ’ রব নেই কোথাও। সেটিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচ বছর কাটিয়ে দেওয়া এই পেসারের উপলব্দি, টিকে থাকতে হলে তাকে আরো উন্নতি করতে হবে। গতকাল বিসিবি একাডেমিতে সাংবাদিকদের মুস্তাফিজ বলেছেন, নিজের ভান্ডারে অস্ত্র বাড়াতে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছেন তিনি। ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে ভেতরে ঢোকানো ডেলিভারি নিয়ে বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের সঙ্গে কাজ করেছেন। উন্নতিও হয়েছে।

দল, একাদশ থেকে বাদ পড়ার তিক্ততা এখন হজম করতে হচ্ছে মুস্তাফিজকে। বাদ পড়ার অভিজ্ঞতাটা তার কাছে এমন, ‘আমার জন্য ভালো। তাহলে আমি বুঝব আমার উন্নতি করতে হবে, বুঝব যে এই দিয়ে থাকার যোগ্য না।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা এখন কঠিন মনে হয় মুস্তাফিজের। কারণ এখন তাকে বুঝে ফেলেছে ক্রিকেট বিশ্ব। গতকাল ২৪ বছর বয়সি এই পেসার বলেন, ‘এখন আমাকে নিয়ে তো জানে সবাই। আমি আগে সহজে উইকেট পাইতাম। এখন আমার কাছে কঠিন হয়।’ ক্রিকেট দুনিয়ায় সাড়া ফেলেছেন অভিষেকেই। ভক্তদের ভালোবাসা পেয়েছেন, ক্রিকেট বিশ্বে সবার আলোচনার, চিন্তার কারণ ছিলেন। সেসব এখন আর নেই। এসব খুব বেশি ভাবায় না মুস্তাফিজকে, ‘চলতেছে, চলুক। এই আর কি। ওইরকম বেশি কিছু না। মনে হয় দেশের জন্য কিছু কিছু করছি। এখন অনেকে অনেকভাবে নেয়। স্বাভাবিক, সাংবাদিকরাও অনেক বাজে বাজে কথা বলে। চেষ্টা করি কি করলে আবার ঐ জায়গায় যেতে পারব।’

তরুণ পেসারদের উঠে আসাকে স্বাগত জানাচ্ছেন মুস্তাফিজ। তিনি বলেন, ‘আমরা তো আজীবন খেলব না। আমি ২০-২১ বছরে মনে হয় ঢুকছি (জাতীয় দলে)। আরো দুবছর খেললে সাত বছর হয়ে যাচ্ছে জাতীয় দলে। শরীফুলের (যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের বাঁহাতি পেসার) বয়স যদি হিসাব করেন তাহলে ১৯-২০। কিছু তো আসা লাগবে। আসলে তো ভালো, আমাদের জন্য তো ভালো। আমার কথা হলো উপরে একটা লক্ষ্য আছে, এই জায়গাটায় কে থাকবে। যে ভালো করবে সে থাকবে।’

মূলত অস্ত্রোপচারের পরই ধার কমেছে মুস্তাফিজের কাটারের। সঙ্গে দেশের বাইরে খেলা হওয়ায় উইকেটের সহযোগিতা পাননি। কাটারও ধরেনি। গতকাল এই তরুণ বলেন, ‘অপারেশনের পরে বলেন আর যাইহোক। বেশিরভাগ বাইরে খেলা হয়েছে। দেশে খেলা হলে এই উইকেটে গ্রিপ হয় ভালো। বাইরে তো এরকম আহামরি হয় না।’ তবে অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। জানালেন, ‘আমি দু-একটা জিনিস চেষ্টা করছি। ইয়র্কারটায় আমি আগের মতো আত্মবিশ্বাস পাই না, চেষ্টা করতেছি। কাটারটা তো আছে আর কাজ করছি ভেতরে ঢোকানো নিয়ে।’ উইকেটে বল ধরলে, ২৫০ রানের উইকেটে নিজের কার্যকারিতা বেশি দেখেন মুস্তাফিজ।

ডানহাতিকে ভেতরে ঢোকানো বলের গ্রিপ তাকে দেখিয়ে দিয়েছেন গিবসন। জিম্বাবুয়ে সিরিজে কিছুটা হতেও দেখেছেন। মুস্তাফিজ বলেন, ‘আমার কাছে ভালোই মনে হচ্ছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুইটা টি-টোয়েন্টি খেললাম, দুইটা ওয়ানডে খেললাম। প্রথম স্পেলে চেষ্টা করেছি বল ভেতরে ঢোকার। বেশি না হলেও দু-একটা বল কাছাকাছি হয়েছে। আসতেছে। একদিনে তো হয় না সব।’