স্পোর্টস ডেস্ক
আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াঙ্গন থমকে আছে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপটা এখন সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে ইউরোপকে। গেল শুক্রবার তাই স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চলমান আসর।
এই স্থগিতাদেশের মধ্য দিয়ে করোনার প্রকোপ হয়তো কমে আসবে, কিন্তু বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আয়োজকদের। ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ ড. রব উইলসন মনে করেন, এবারের মৌসুম শেষ করতে না পারলে বিরাট আর্থিক লোকসানের ঝুঁকি থাকবে। আর এই লোকসান আটকাতে ইংল্যান্ডের শীর্ষ চার বিভাগের দলগুলোর প্রতিনিধিরা এক বৈঠকে বসেছিলেন। শেফিল্ড হ্যালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ ড. রব জানান, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমা মাত্রই যেকোনো মূল্যে দ্রুত লিগ শেষ করে ফেলতে হবে। কিন্তু কোনো কারণে লিগ শেষ করা না গেলে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ। তিনি শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইলকে এই ব্যাপারে বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগের মূল লক্ষ্য এখন লিগ শেষ করা। সেটা করতে না পারলে সমস্যাটা তীব্র হবে। শেষ করার জন্য দুটো মৌসুমের মধ্যকার বিরতির সময়টা কমিয়ে ফেলতে হবে। সেটা করতে না পারলে যে লোকসানটা হবে তা পুষিয়ে নিতে আরো ১৮ মাস কি দুই বছর সময় লাগবে। ভবিষ্যতের চিত্রটা ভালো করার জন্যই ২০১৯-২০ মৌসুমটা শেষ করা দরকার।’ এর জন্য একটা উপায়ও বাতলে দিয়েছেন রব উইলসন। তিনি বলেন, ‘এর জন্য অর্থহীন সব প্রতিযোগিতা, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ, দুই লেগের নক আউট ম্যাচ—সব ভুলে যেতে হবে। এমনি কাপ প্রতিযোগিতাও বন্ধ করে রাখা যেতে পারে।’
প্রিমিয়ার লিগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক মূল্য এখন তিন বছরের চক্রে হয় সাড়ে চার বিলিয়ন পাউন্ড। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অনেক রকম শর্ত আছে। এছাড়া স্পন্সরদের কথা তো বাদই দিলাম। তাই এটাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’
রব উইলসন মনে করছেন, লিগ পুনরায় চালু করার ব্যাপারে সরকারি পরামর্শদাতাদের সহায়তা নিতে পারে আয়োজকরা। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি নিজেদের লক্ষ্যের ব্যাপারে পরিষ্কার থাকি, তাহলে সরকারের দেওয়া তথ্যের ওপর আমাদের ভরসা করতে হবে। ধরা যাক, ভাইরাসটা সবচেয়ে মারাত্মক রূপ নেবে মে মাসে। তাই আমার এক জুন থেকেই খেলা শুরু করতে পারব না। আমাদের খেলা শুরু করতে হবে এক জুলাই থেকে। আমি মনে করি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে জুলাইয়ে খেলা শুরু করার দিকে চোখ রাখা উচিত। এর মধ্যে আমাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, প্রাক-মৌসুুম সফর, ট্রান্সফার উইনডো—সব বন্ধ করে দিতে হবে।’
