স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি তারকা ব্লেইজ মাতুইদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ফুটবল বিশ্বে এখন পর্যন্ত যারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তার মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বড়ো নাম। তিনি খেলতেন ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন জুভেন্তাসে। সিরি ‘এ’ ক্লাব কর্তৃপক্ষ তার শরীরে ‘কোভিড-১৯’-এর অস্তিত্ব পাওয়া পেছে বলে জানিয়েছেন।
জুভেন্তাসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মাতৌদির মেডিক্যাল পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস-কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়েছে।’
জুভেন্টাসের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে ৩২ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডার ইতিমধ্যেই বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। এর আগে গত বুধবার জুভেন্টাসে মাতৌদির সতীর্থ ড্যানিয়েল রুগানির দেহে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়েছিল। যে কারণে দ্রুতই পুরো দলকে কোয়ারেন্টাইানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
মাতুইদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে নিজের ভক্তদের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘সাবধানে থাকো। সময়টা বেশ কঠিন। প্রথম দিকে আমি বুঝতে পারিনি অসুখটা এত গুরুতর ও বিপজ্জনক। কত দ্রুত ভাইরাসটি ইতালিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ধরনের কঠিন মুহূর্তে আমি সবাইকে অনুরোধ জানাব সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলো মেনে চলতে এবং পুরো পরিবারসহ নিজের দিকে খেয়াল রাখতে। মেডিক্যাল ও নার্সিং স্টাফদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা সবাই তোমাদের সঙ্গে আছি।’
এই নিয়ে সর্বমোট ১৩ জন সিরি-এ খেলোয়াড়ের দেহে কোভিড-১৯ ধরা পড়ল। এর মধ্যে সাম্পদোরিয়ার সাত জন ও ফিওরেন্তিনার তিন জন রয়েছে। এর বাদে গত ৮ মার্চ সাম্পদোরিয়ার বিপক্ষে ভেরোনা ম্যাচ খেলার পরপরই ইতালিয়ান মিডফিল্ডার জাকাগনি সতর্কতা হিসেবে স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে চলে গিয়েছিলেন। ইতালির বাইরেও ইংল্যান্ডের কোচ মিকেল আর্তেতা ও চেলসির খেলোয়াড় ক্যালাম হাডসন ওডোই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত এখন পুরো ইউরোপ। ইতালির পর করোনায় কাঁপছে স্পেন। জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড থেকে শুরু ইউরোপের কোনো দেশ বাকি নেই যে, করোনা আক্রান্ত হচ্ছে না। ইউরো ২০২০ সালের আসর এক বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও উয়েফা ইউরোপা লিগও আপাতত স্থগিত আছে। ইতালিকে এরই মধ্যে লক ডাউন করে দেওয়া হয়েছে। সিরি ‘এ’র খেলা আপাতত আগামী তিন এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।
