বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু ও সতর্কতা প্রসঙ্গ

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২০, ২১:৩৯

বাংলাদেশকে এখন আর আমরা করোনা ভাইরাসমুক্ত বলিতে পারি না। বুধবার পর্যন্ত ১৪ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়াছে বলিয়া জানাইয়াছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। ইতোমধ্যে একজন, অর্থাত্ বাংলাদেশে প্রথম এই রোগে একজন সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তি মারা গিয়াছেন বলিয়াও প্রতিষ্ঠানটি জানাইয়াছে। তাহারা ঐ ব্যক্তির মৃত্যু ও সংক্রমণ সম্পর্কে যাহা বলিয়াছে তাহা জনগণের জন্য আরো একটি সতর্ক বার্তা। ঐ ব্যক্তির ছিল ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনির জটিলতা। তাহার ফুসফুসেও সমস্যা ছিল। তিনি বিদেশফেরত একজনের সংস্পর্শ হইতে এই রোগে আক্রান্ত হইয়াছিলেন।

আমরা উদ্বেগের সহিত লক্ষ করিতেছি, যাহারা বিভিন্ন দেশ হইতে ফিরিয়া আসিয়াছেন তাহাদের কাহারো কাহারো সংস্পর্শ হইতেই এই রোগ দেশে ছড়াইতে শুরু করিয়াছে। অথচ সরকার বিদেশফেরতদের ঘরে থাকিবার এবং কাহারো সংস্পর্শে না যাইবার জন্য যে নির্দেশনা দিয়াছে তাহা অনেকেই মানিতেছেন না। বিভিন্ন জেলায় বিদেশফেরতদের ৫ হাজার হইতে শুরু করিয়া ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হইয়াছে; কিন্তু তাহাতেও কাজ হইতেছে না। সত্য ইহাই যে, করোনা ভাইরাসের মহাবিপদ সম্পর্কে দেশবাসী সঠিকভাবে উপলব্ধি করিতে পারিতেছে না। আবার কেহ কেহ ভালো করিতে গিয়া মন্দকেও টানিয়া আনিতেছে বলিয়া দৃশ্যমান। সৌদি আরব শুধু মক্কা ও মদিনার দুইটি পবিত্র মসজিদ ব্যতিরেকে গোটা দেশের মসজিদে প্রার্থনা বন্ধ করিয়া দিয়াছে। কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ ইতোমধ্যেই একই ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়াছে। অথচ বাংলাদেশে একাধিক জায়গায় রোগমুক্তির জন্য লোক সমাগম করা হইয়াছে, যাহা ঠিক যুক্তিসংগত হয় নাই। মানুষের এই প্রার্থনার উদ্দেশ্যটি মহত্; কিন্তু  সমাবেশ করা এড়াইয়া যাওয়া উচিত ছিল। এই সম্পর্কে সচেতন ধর্মবেত্তাদের উচিত হইবে এখনই ধর্মপ্রাণদের বুঝাইয়া নিবৃত্ত করা। আমরা বিদেশফেরতদের নিকট, ধর্মপ্রাণ মানুষের নিকট বিশেষ অনুরোধ জানাইব, অধিক মানুষের কাছাকাছি গমন হইতে বিরত থাকিতে হইবে। ইহা নিজের স্বার্থে এবং অপরের স্বার্থে। আমরা জানি, আগামী কয়েকটি দিন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কিছুদিন নিজেদের সংযত করিয়া সারাদেশে এই রোগ ছড়াইয়া না দিলে হয়তো এই মহাবিপদ হইতে নিষ্কৃতি পাইব। আশঙ্কার বিষয় হইল, এই রোগ ইতালি, ইরান ও স্পেনসহ যেই সকল দেশে ব্যাপকভাবে ছড়াইয়া পড়িয়াছে, সেই সকল দেশে প্রথমাবস্থায় দুই-চার জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীই পাওয়া গিয়াছিল। সপ্তাহ না ঘুরিতেই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাইয়াছে। আরো আশঙ্কার বিষয় হইল—উন্নত বিশ্বের মতো আমরা এই রোগ মোকাবিলায় স্বাবলম্বী নহি। ইহাও মনে রাখিতে হইবে, বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচাইতে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। সুতরাং এই মুহূর্তে দেশের প্রতিটি মানুষের উচিত হইবে অত্যন্ত সতর্ক ও সচেতন হওয়া এবং সরকারের নির্দেশাবলি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে ইহাই হইবে প্রতিটি মানুষের অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব।