চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট দুই জোটই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। সকল প্রার্থী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে ভোট প্রার্থনা করছেন। তবে চাঁদপুর-৩ আসন ছাড়া বাকীগুলোতে বিএনপি প্রচারণায় কোণঠাসা হয়ে আছে।
চাঁদপুর জেলার পাঁচটি আসনে এবার চূড়ান্তভাবে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিটি আসনে দ্বিমুখী লড়াই হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভোটার, কর্মী ও সমর্থকদের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে।
চাঁদপুর-১ (কচুয়া): এ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান এমপি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, তিনি আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোশারফ হোসেন বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ, অধ্যাপক ডা. একেএসএম শহীদুল ইসলাম স্বতন্ত্র, এমদাদুল হক রুমন জাতীয় পার্টি, নুরুল আলম মজুমদার, ইসলামী ফ্রন্ট, জোবায়ের আহমেদ ইসলামী আন্দোলন, আজাদ হোসেন গণফোরাম/জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে নৌকা, ধানের শীষ এবং স্বতন্ত্র প্রর্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
চাঁদপুর-২ মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা : এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে নুরুল আমিন রুহুল আওয়ামী লীগ, ড. জালাল উদ্দিন বিএনপি, এমরান হোসেন মিয়া জাতীয় পার্টি, আফসার উদ্দিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, মোঃ মনির হোসেন চৌধুরী ইসলামী ঐক্যজোট, নূরুল আমিন লিটন মুসলিম লীগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে নৌকা, ধানের শীষ ও হাতপাখার সাথে লড়াই হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
চাঁদপুর-৩ চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলা: এ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান এমপি ডা. দীপু মনি আওয়ামী লীগ, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বিএনপি, মোঃ জয়নাল আবেদীন শেখ ইসলামী আন্দোলন, দেওয়ান কামরুন্নেছা জাকের পার্টি, শাহজাহান তালুকদার বাসদ, মোঃ আজিজুর রহমান বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, মোঃ মিজানুর রহমান তরিকত ফেডারেশন। এই আসনে নৌকা ও ধানের শীষ-এর সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে ইদানীং হাতপাখার নামও উঠে আসছে।
চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ উপজেলা: এ আসনে সর্বোচ্চ অর্থাত্ ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগ, এম এ হান্নান বিএনপি, মুকবুল হোসেন ইসলামী আন্দোলন, গোলাম মাহমুদ ভূঁইয়া মানিক ইসলামী ফ্রন্ট, মাঈনুল ইসলাম জাতীয় পার্টি, বাচ্চু মিয়া ভাসানী জাকের পার্টি, আনিসুজ্জামান ভূঁইয়া বাসদ, দেলোয়ার হোসেন পাটওয়ারী ন্যাপ, মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া মুসলীম লীগ। এ আসনে বিএনপির প্রার্থীর প্রার্থীতা উচ্চ আদালতে স্থগিত থাকার কারণে অবস্থাদৃষ্টে নৌকার প্রার্থী শফিকুর রহমান এককভাবেই ভোটের মাঠে লড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য ইদানীং হাতপাখার নামও উঠে আসছে।
চাঁদপুর-৫ হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা: এই আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান এমপি মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম আওয়ামী লীগ, ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বিএনপি, সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী ইসলামিক ফ্রন্ট, আবু সুফিয়ান আল কাদেরী ইসলামীক ফ্রন্ট, মো. শাহাদাত হোসেন ইসলামী আন্দোলন, মো. ওবায়েদ মোল্লা, জাকের পার্টি এবং খোরশেদ আলম খুশু জাতীয় পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে নৌকা, ধানের শীষ এবং চেয়ার প্রতীকের প্রার্থীদের সাথে ত্রিমুখী ভোটযুদ্ধ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ, চাঁদপুর জেলার প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং কেন্দ্রীয় হাই-কমান্ডের নির্দেশে ঐক্যবদ্ধ। তাই মনোনীত প্রার্থীর জন্য একযোগে কাজ করে যাওয়ার দরুন আওয়ামী লীগ সর্বত্র প্রাধান্য বিস্তার করে চলেছে। তবে ইদানীং বিভিন্ন ভোটারদের মুখ থেকে জানা যায়, যে স্থানে বিএনপি সুবিধা করতে পারছে না, সে স্থানে তারা হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।
