করোনার ঝুঁকির মধ্যেও ভোটে অনড় ইসি

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২০, ২২:০৬

বিপজ্জনক করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও সব নির্বাচনি কার্যক্রম, প্রবাসী ভোটার ও স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং পাঁচটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণে এখন পর্যন্ত অনড় ইসি। ভোট পেছানোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। যদিও ইতিমধ্যে প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ রোগে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৪ জন ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। তবে প্রবাসী ভোটার কার্যক্রম ও স্মার্ট কার্ড বিতরণ কর্মসূচি বন্ধের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হলেও ঘোষণা আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ইত্তেফাককে বলেন, ভোট বন্ধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভোট যথাসময়ে হবে। তবে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভোটকে কেন্দ্র করে সব ধরনের মিছিল-পথসভা বন্ধ করা হয়েছে। প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে বলা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে কতখানি আক্রান্ত করবে, তা বিশ্লেষণ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ (চসিক) পাঁচ আসনের নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)    কে এম নূরুল হুদা বলছেন, ‘করোনা ভাইরাস কতখানি প্রভাব ফেলবে, সেটা আমরা বিশ্লেষণ করতে চাইছি। তবে পরিস্থিতি খারাপ হলে নির্বাচন স্থগিত করার চিন্তা আছে।’

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে সব ধরনের প্রচার বন্ধ থাকার বিধান রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শেষ হবে ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনের প্রচারণা। ২১ মার্চ ঐ তিন সংসদীয় আসনে ভোট হবে। আর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনে আগামী ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণ হবে।

নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, ঢাকা-১০ আসনের সব কেন্দ্রে ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে। এই তিন নির্বাচনি এলাকার ভোটার ২৪ লাখের ওপরে। ভোটারদের ভোট দিতে হবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার মেশিনে একাধিক আঙুলের ছাপ দিয়ে। প্রতিটি ভোটকক্ষে একই মেশিনে কয়েক হাজার ভোটারকে আঙুলের ছাপ দিয়ে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। এরপর একই বোতাম টিপে ভোট দিতে হবে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার সমাগম এবং ভোট গ্রহণের জন্য অনেক লোক দায়িত্ব পালন করবেন। বিষয়টি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ধানমন্ডি এলাকার একাধিক ভোটারের প্রশ্ন, সরকার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনসাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মুজিববর্ষের মূল অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ করা হয়েছে। ভোট মানেই জনসমাগম। এই অবস্থায় ভোটের বিষয়, ভোটারদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার বিষয় নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। 

ভোটার কার্যক্রম ও স্মার্ট কার্ড বিতরণ চলছে

প্রবাসীদের দ্রুত ভোটার করার জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে ‘প্রবাসী শাখা’ রয়েছে। এছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসেও প্রবাসীদের ভোটার করার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইসিতে প্রবাসী শাখায় প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক ভোটার হচ্ছেন। গত সপ্তাহে প্রবাসী ভোটার হওয়ার গড় হার ছিল ৬০ জনের বেশি। প্রবাসী নাগরিক ভোটার হওয়ার জন্য এ শাখায় এসে ভোটার ফরম পূরণ, ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দিয়েছেন। গত ১১ মার্চ ইতালি প্রবাসী দুই জন, চীন প্রবাসী দুই জন, আমেরিকা প্রবাসী সাত জন, সিঙ্গাপুর প্রবাসী দুই জন ও কানাডা প্রবাসী তিন জন ইসিতে এসে ভোটার হয়েছেন। ১০ মার্চ ৪৩ জন, ৯ মার্চ ৫৯ জন ও ৮ মার্চ ৫৭ জন প্রবাসী এ শাখায় এসে ভোটার হয়েছেন। ইসির কর্মকর্তারা তাদের হাত ও মুখ স্পর্শ করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সর্বশেষ বুধবারও বেশ কয়েক জন প্রবাসী ভোটার হয়েছেন। এখনো পর্যন্ত প্রবাসীদের ভোটার হওয়া কার্যক্রম বন্ধ করেনি ইসি। আজ থেকে বন্ধের নোটিশ দেওয়া হতে পারে।

এদিকে চলতি মাসে ২৬টি জেলার ২৬টি উপজেলায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে অনেক উপজেলায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ কার্যক্রমও বন্ধ হচ্ছে।