চট্টগ্রামে পাইকারি বাজার স্থিতিশীল খুচরায় অস্থির

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২০, ২২:১৫

দেশে ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে তেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজসহ প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের দাম নিম্নমুখী। বাজারে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে খুচরা বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। গুজবের কারণে এক শ্রেণির ক্রেতা দৈনন্দিন চাহিদার বাড়তি পণ্য কেনায় খুচরা বাজারে ভোগ্যপণ্য বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে চাল নিয়ে আবার কারসাজি শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে হঠাত্ চাল বস্তাপ্রতি ৩০০/৪০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারি বাজারে চাল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে মিলমালিকরা। এর ফলে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী বিরাজ করছে।

 নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে মুদির দোকানগুলোতে ক্রেতারা পণ্য কিনতে ভিড় করছে। গুজবের কারণে এক শ্রেণির ক্রেতা চাহিদার অতিরিক্ত পণ্য কিনতে শুরু করেছে। নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার,      চকবাজার, বহদ্দারহাট ও কাজিরদেউড়ি বাজারের মুদির দোকানগুলোতে খুচরা ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। এই সুযোগে বিক্রেতারা পণ্যের দাম কেজিপ্রতি দুই/তিন টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছে। বহদ্দারহাটের মুদির দোকানদার ওমর ফারুক বলেন, ‘আমার অনেক পারমানেন্ট কাস্টমার রয়েছে। বাজারে পণ্য সংকট হতে পারে এ ধরনের অনুমান করে তারা অতিরিক্ত পণ্য কিনে নিচ্ছে। অথচ সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।’ রিয়াজউদ্দিন বাজারের মুদিদোকানি রইসুল ইসলাম বলেন, ‘যারা সপ্তাহের বাজার করেন তারা এক সঙ্গে মাসের বাজার করে নিচ্ছে।’

করোনা ভাইরাস নিয়ে বৈশ্বিক মহামারি দেখা দিলে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর ভোগ্যপণ্য আমদানি হচ্ছে। জাহাজে মাল ওঠা-নামা নিয়ে কোথাও সমস্যা হচ্ছে না। ফলে আমদানি করা পণ্য দেশে পৌঁছতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। খাতুনগঞ্জের পাইকারি ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা জানান, ইতিমধ্যে দেশে প্রচুর ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। সামনে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের কোনো সংকট হবে না এবং দামও বাড়বে না। এখনো প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে আমদানি করা পণ্য খালাস হচ্ছে। রমজানের চাহিদার তুলনায় বেশি ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের কাছে মজুত রয়েছে।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. আসাদুজ্জামান বুলবুল ইত্তেফাককে বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে আমদানির ক্ষেত্রে তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে চীন থেকে আগের তুলনায় পণ্য কিছুটা কম আসতেছে। তবে অন্যান্য দেশ থেকে স্বাভাবিক নিয়মে পণ্য আসছে। আইপি অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। বন্দর হয়ে প্রতিদিন খালাসও হচ্ছে।’

দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহত্ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে বেচাকেনা কমে গেছে। পণ্যের দাম নিম্নমুখী। ঊর্ধ্বমুখী পামঅয়েলের দাম বর্তমানে আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। কয়েক মাস আগে হঠাত্ করে পামঅয়েলের দাম বেড়ে যায়। ডিও ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে প্রচুর মুনাফা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতি মণ পামঅয়েল ৩ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। গতকাল বুধবার পামঅয়েল বিক্রি হয়েছে মণ ২ হাজার ১৮০ টাকা থেকে ২ হাজার ২৬০ টাকায়। আর সয়াবিনের বাজার কিছুটা বাড়তি রয়েছে। প্রতি মণ ২ হাজার ৯০০ টাকার সয়াবিন ৩ হাজার ১৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই/তিন মাস যাবত্ তেলের বাজার নিয়ে ব্যাপক কারসাজি হয়েছে। এছাড়া চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২ হাজার ১০০ টাকায়। চিনির দাম পাইকারি বাজারে মণে প্রায় ২০০ টাকা কমেছে।

এদিকে পেঁয়াজের বাজার নিম্নমুখী। পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ কেজি ৪০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৩৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী জানান, পেঁয়াজের বাজার নিম্নমুখী। কয়েক দিনে প্রচুর ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে এসেছে। তবে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির জন্য নতুন করে আইপি দিচ্ছে না বলে শুনেছি। রসুন ১২৫ টাকা ও আদা ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চালের বাজার নিয়ে হঠাত্ করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, হঠাত্ করে মিলমালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। চট্টগ্রামের অধিকাংশ ব্যবসায়ী কমিশনে চাল বিক্রি করে থাকে। ফলে মিলমালিকরা দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম বেড়ে গেছে। পাহাড়তলী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, গত দুই/তিন দিন ধরে উত্তরাঞ্চলের মিলমালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা চাল নেই, ধান নেই বলে দামও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সরবরাহও কমিয়ে দিয়েছে।