স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ৪৯তম বার্ষিকী আজ

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২০, ০০:২৪

আজ ১৯ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ৪৯তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে জয়দেবপুরে (গাজীপুর) ভাওয়াল রাজবাড়ীতে তত্কালীন সেনানিবাসে দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার উদ্দেশ্যে ব্রিগেড কমান্ডার জাহানজেবের নেতৃত্বে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের একদল সৈন্য জয়দেবপুর সেনানিবাসে আগমন করবে—এই খবর পেয়ে জয়দেবপুরের সর্বস্তরের জনসাধারণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড গড়ে তোলে। ঐ সময় জয়দেবপুর সেনানিবাসের অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল মাসুদ ও সহ-অধিনায়ক ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ। এসময় গাজীপুরের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা (সাবেক মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত) মরহুম শামসুল হক পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষ্যে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসমূহ ও শহিদ হুরমত স্মৃতি সংসদ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম হাবিব উল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি হাইকমান্ড এবং বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপিকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি অ্যাকশন কমিটি গঠন করা হয়। নেতৃবৃন্দের পরামর্শে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ কল্পে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তায় বহুসংখ্যক ব্যারিকেড তৈরি করে।

সেনানিবাস থেকে ফেরার পথে জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিংয়ে পাক হানাদার বাহিনী উপস্থিত হলেই স্থানীয় সাহসী বীরদের বন্দুক গর্জে ওঠে। পাক হানাদার বাহিনীর প্রতি মরহুম কাজী আজিম উদ্দিন আহমেদ (মাস্টার) স্বীয় বন্দুক দিয়ে প্রথম গুলিবর্ষণ করেন। ঐ সময় হানাদার বাহিনী পালটা গুলিবর্ষণ করলে নিয়ামত, মনু খলিফা শহিদ হন এবং ডা. ইউসুফ আলী সরকার, শাহজাহান, সন্তষসহ বহু লোক আহত হন।