ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
আবদুল হাকিম আবির
জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ মেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান পরিচালক ড. তানিয়া রহমানের পরিচালক হিসেবে তিন বছরের কার্যমেয়াদ আগামী ৬ জানুয়ারি শেষ হবে। ইতোমধ্যে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. গোলাম আজম পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য উপাচার্য বরাবর তার দাবি উপস্থাপন করেছেন। অন্যদিকে অধ্যাপক তাহমিনা আখতারও পরিচালক হওয়ার জন্য উপাচার্য বরাবর আবেদন করেছেন যিনি এর আগে আর্থিক অসচ্ছতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারজনিত কারণে পরিচালক হতে পারেননি।
শিক্ষকরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ’১৯৭৩ অনুযায়ী কেবল জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ শিক্ষক/অধ্যাপক সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। এ হিসেবে পরবর্তী সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. গোলাম আজম পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাবার কথা। অধ্যাপক ড. মো. গোলাম আজম বলেন, ‘অধ্যাদেশ অনুযায়ী সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক হওয়ার জন্য উপাচার্য বরাবর আমি আবেদন জমা দিয়েছি। যেহেতু অধ্যাদেশে ‘বাই দ্যা রোটেশন ইন অর্ডার অব সিনিয়রিটি’ (বর্তমান পরিচালকের পরবর্তী জ্যেষ্ঠ শিক্ষক) উল্লেখ রয়েছে তাই এই পদে আমিই সবচাইতে যোগ্য।
অধ্যাপক তাহমিনা আখতারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানা যায়, তিনি কুয়েত মৈত্রী হলের প্রভোষ্ট থাকাকালীন হাজী মুহসিন হলেন বর্ধিতাংশ ভবন ভেঙে আর একটি ভবন নির্মাণ করেন যা কুয়েত মৈত্রী হলের বর্ধিত ভবন নামে পরিচিত। ভবন নির্মাণের পর ছাত্রীরা বসবাস শুরু করলে ছয় মাসের মধ্যে তাতে ফাটল ধরে। তত্কালীন উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দ্বারা ভবন ভেঙে যাবার কারণ পরীক্ষা করালে নির্মাণে অনেক ত্রুটি পাওয়া যায় এবং ভবনটি ছাত্রীদের বসবাসের অযোগ্য ঘোষিত হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রাথমিক তদন্তে অধ্যাপক তাহমিনা আক্তার দোষী সাব্যস্ত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট গত ২২ অক্টোবর ২০১৫ থেকে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায়। তার পরিবর্তে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ড. তানিয়া রহমান পরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য তার মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, ইনিস্টিটিউট সমূহের পরিচালক নিয়োগ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ’১৯৭৩ অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
