করোনা ভাইরাসে বন্দি ক্রিকেট

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২০, ২১:৩১

  আত্মনির্বাসনে নিউজিল্যান্ড

      ক্রিকেটাররা

নিউজিল্যান্ডের লম্বা এক অফ-সিজন শুরু হয়েছে। তার আগে জাতীয় দলের ১৫ খেলোয়াড় ও সব কোচ-কর্মকর্তা নিজে থেকে আইসোলেশনে গেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় বাতিল হওয়া সফর শেষে দেশে ফেরার পর সব ক্রিকেটার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিদেশ থেকে ফিরলেই তাকে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের জন্য নিজের বাড়িতে নির্বাসনে থাকতে হবে।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের গণসংযোগ ব্যবস্থাপক রিচার্ড বুক বলেছেন, ‘তারা (জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা) সেলফ আইসোলেশনে গেছে। আমরা তাদের সেলফ আইসোলেশনের অর্থ কী, কী করতে হবে, তার বিস্তারিত জানিয়েছি। আমরা যতদূর জানি, তারা এটা শক্তভাবে মেনে চলেছে।’

  পাকিস্তানের সবাই নিরাপদ

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) জন্য একটা দারুণ স্বস্তির খবর এসেছে। তারা তাদের ১২৮ জন খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, ম্যাচ অফিশিয়াল, ব্রডকাস্টার ও দল মালিকের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিল। এর সবার পরীক্ষার ফলাফল নেতিবাচক এসেছে। তার মানে, কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন।

এর বাইরে মুলতান সুলতান্স দলের সবার পরীক্ষা করানো হয়েছে। পিএসএলের এই দলটিরও কারো পরীক্ষায় কোভিড-১৯ ধরা পড়েনি।

পিসিবির প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খান বলেছেন, ‘এটা আমাদের এইচবিএল পাকিস্তান সুপার লিগের বিশ্বস্ততা ও সততা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার ছিল। পিএসএলের শেষ পর্যন্ত যারা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেই সব খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, ব্রডকাস্টার ও ম্যাচ অফিশিয়ালের কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল নেতিবাচক এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে পরীক্ষার যে ফলাফল এসেছে, তাতে পিসিবি খুশি। আর আমরা সন্তুষ্ট যে, আমাদের সব খেলোয়াড় তাদের পরিবারের সঙ্গে কোনোরকম স্বাস্থ্যগত দুশ্চিন্তা ছাড়াই একত্রিত হতে পেরেছে।’

  বিনোদনমূলক খেলাও বাতিল

ঘরোয়া খেলা ও আন্তর্জাতিক খেলা আগেই স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। গতকাল সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী তারা ঘোষণা দিয়েছে, দেশটিতে সব ধরনের বিনোদনমূলক ক্রিকেটও বন্ধ রাখতে হবে।

ইসিবির এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘নিরাপদ দূরত্ব বজায়ে রাখার সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দুঃখের সঙ্গে সুপারিশ করছি যে, সব ধরনের বিনোদনমূলক খেলাও আজ থেকে বাতিল করে দেওয়া হলো। এর মধ্যে খেলোয়াড়দের ট্রেনিং, প্রাকমৌসুম প্রীতি ম্যাচ ও সব ধরনের অস্বীকৃত ম্যাচও অন্তর্ভুক্ত।’

  দুশ্চিন্তায় জেমস অ্যান্ডারসন

৪ জুন থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট মৌসুম। আর এই সময়ই খেলায় ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন জেমস অ্যান্ডারসন। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির এই সময়ে খেলা যে শুরু হচ্ছে না, সেটা নিশ্চিত। ফলে নিজের ভবিষ্যত্ নিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে ইনজুরি নিয়ে ফেরা জেমস অ্যান্ডারসন। অ্যান্ডারসন বলছিলেন, এমনও সম্ভাবনা আছে যে, একটা বলও এই মৌসুমে তিনি করতে পারলেন না। ফলে নিজেকে নিয়ে শঙ্কিত তিনি, ‘এমনও শঙ্কা আছে যে, এই গ্রীষ্মে আমরা একটা বলও করতে পারলাম না। মৌসুম শুরু হবে বলে মনে হচ্ছে না। কী যে হবে, তার কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। আমি অবশ্যই ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কিত।’

  জিম্বাবুয়েতে সব ক্রিকেট স্থগিত

সারা পৃথিবীতে আগেই সব ধরনের ক্রিকেট স্থগিত হয়ে গেছে। যদিও জিম্বাবুয়েতে এখনো সেভাবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েনি। কিন্তু দেশটির ক্রিকেট বোর্ড সরকারের নির্দেশনা মেনে গতকাল থেকে বন্ধ করে দিয়েছে সব ধরনের ক্রিকেট।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘রাষ্ট্রপতি এমারসন এমনাংওয়া যেভাবে বলেছেন, সেই অনুযায়ী করোনা ভাইরাসের এই বৈশ্বিক মহামারির সময়ে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের সব ধরনের ক্রিকেট স্থগিত করে দেওয়ার।’