সাভারে দুই মাদ্রাসাছাত্রকে পিটিয়ে জখম, শিক্ষক আটক

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২০, ০০:৪২

সাভারে একটি মাদ্রাসায় দুই ছাত্রকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক শাহাদাত শিকদারকে আটক করেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকালে সাভার পৌর এলাকার বিরুলিয়া রোডের সুলতানা প্যালেস ভবনে অবস্থিত আল-মাদ্রাসা হামিউস্সুন্নাহ নামক প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো দুই শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। আটক শিক্ষক শাহাদাত শিকদার (২২) সাভারের আমিনবাজার বেগুনবাড়ী মহল্লার হাজী গুল মোহাম্মদের ছেলে। 

মরধরের শিকার মাদ্রাসাটির শিক্ষার্থী শাকিল পাবনা জেলার সুজানগর থানার কাশিনাথপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে। সে রিকশাচালক বাবা ও পোশাক শ্রমিক মায়ের সঙ্গে পৌর এলাকার মজিদপুর মহল্লায় দুলাল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে ঐ মাদ্রাসায় হেফজখানায় পড়ত। অপর শিক্ষার্থী জামাল হোসেন শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার আগলাবাজার গ্রামের মো. মাইনুদ্দিনের ছেলে। সে বাবা-মায়ের সঙ্গে সাভার পৌর এলাকার দিলকুশাবাগ মহল্লার আক্কাস আলীর বাড়িতে ভাড়া থেকে পার্শ্ববর্তী আল-মাদ্রাসা হামিউস্সুন্নাহ নামক প্রতিষ্ঠানের হাফেজি বিভাগে পড়াশুনা করত।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জামালের মা শাহানা বেগম বলেন, আমার ছেলে জামাল ঐ মাদ্রাসার হাফেজি বিভাগে পড়ত। তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মাদ্রাসার শিক্ষকরা বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মামুনুর রশিদের কাছে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অন্য ব্যক্তির কাছে মোবাইল ধরিয়ে দেন। কিন্তু ঐ ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন রেখে বলেন, আমাদের মাদ্রাসায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিছু লোক মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট করার জন্য ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে।

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হামিদুর রহমান বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক শিক্ষককে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।