ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিত্সকরা

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২০, ০০:৪৭

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিত্সা দিতে আগে ডাক্তার-নার্সদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সাসেবার সঙ্গে জড়িত ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের কেউ যেন সংক্রমিত না হন, সেজন্য তাদের প্রত্যেকের জন্য পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহার অত্যাবশ্যক। তবে বর্তমানে যে পরিমাণ পিপিই মজুত রয়েছে তা খুবই সীমিত। পিপিই সংকটের কারণে অনেক চিকিত্সক আতঙ্কে রয়েছেন। রাজশাহী মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিত্সকরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। জ্বর, গলায় ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের সেবা প্রদান করছেন না তারা।

বিভিন্ন অসতর্কতা, প্রবাসীদের কোয়ারেন্টাইন না মেনে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো প্রভৃতি কারণে করোনা যে কোনো সময় আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন পুরোদেশ। বিভিন্ন স্থানে কোয়ারেন্টাইন, সরকার অনুমোদিত হাসপাতালে করোনার চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যারা চিকিত্সা দিচ্ছেন তাদের সুরক্ষার বিষয়টি কতটুকু কার্যকরভাবে এগিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা। বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের চার চিকিত্সককে পাঠানো হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে। বিভিন্ন নামিদামি হাসপাতালেও নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবে চিকিত্সকরা জ্বরের রোগীদের পর্যন্ত চিকিত্সা দিতে রাজী হচ্ছেন না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনো সংক্রামক মহামারি রোগের জন্য চিকিত্সকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার সরঞ্জামাদি সবার আগে দরকার। এই মহামারি মোকাবিলা সবার জন্য একটি যুদ্ধজয়ের মতো। সেখানে এই অস্ত্র অর্থাত্ সুরক্ষার সরঞ্জামাদি ছাড়া যুদ্ধজয় তো কঠিন, কখনো কখনো অসম্ভবও। এই করোনা ইস্যুটি সামনে এসেছে বলেই দেশে পিপিইর বিষয়টি নিয়ে এখন শোরগোল শুরু হয়েছে। করোনা ভাইরাস ব্যাপক হারে ছড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় দেশীয় একটি কোম্পানির মাধ্যমেই উন্নতমানের পিপিই উত্পাদনের চিন্তাভাবনা করা হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছেও পিপিইর চাহিদা জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরো জানান, দেশে করোনা ভাইরাস ব্যাপক হারে সংক্রমিত না হলে মজুত থাকা পিপিই দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে। তবে ব্যাপক হারে সংক্রমণের ক্ষেত্রে আরো অনেক পিপিই লাগবে। কারণ সার্বক্ষণিক ফেসমাস্ক, চশমা আর সুরক্ষিত পোশাকসহ নানা কিছু দিয়ে শরীর মুড়িয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে হয়।

রোগতত্ত্ববিদরা বলেন, বিশ্বের বহু দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে দ্রুত পিপিই পাওয়া অনিশ্চিত হতে পারে। কারণ যেসব দেশে আগেই কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে তাদের অগ্রাধিকার বেশি। এসব চিন্তাভাবনা থেকেই দেশীয় একটি কোম্পানির মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পিপিই প্রস্তুত করতে হবে। আর এ ব্যাপারে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। তারা বলছেন, সুরক্ষাসামগ্রী পর্যাপ্ত না থাকলে এবং করোনা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়লে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে। মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।

এদিকে নিজেদের সুরক্ষা সামগ্রীর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে ডাক্তার-নার্সদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গতকাল সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের চিকিত্সায় নিজেদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় অ্যাপ্রণসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দাবিতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন ডাক্তাররা।